‘সাদেক বাচ্চু নেই, পরিবারের চলার পথও বন্ধ’ শিরোনামে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সমকাল অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুর একদিনই পরই দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কীভাবে আগামী দিনে পথ চলবেন সে কথাই জানান তার স্ত্রী শাহনাজ। সে সময় সমকালকে তিনি জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর ফেসবুকে নানা সমালোচনামূলক কথাবার্তা লেখা হচ্ছে সাদেক বাচ্চুর পরিবার নিয়ে। তাই সোমবার সমকালের মাধ্যমে সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী ফেসবুকে এবং এর বাইরে যারা হওয়া এসব কথাবার্তার প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা চান না বলেও জানান তিনি।

শাহনাজ বলেন, 'আমার স্বামী সাদেক বাচ্চু যা সঞ্চয় রেখে গেছেন তা দিয়ে সন্তান নিয়ে মোটামুটি সুন্দরভাবে চলতে পারবো। ফেসবুকে প্যাথেটিক কথাবার্তা লেখা হচ্ছে, আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমি কারও কাছে কিছুই চাই না। শুধু আমার সন্তান ও স্বামীর জন্য দোয়া চাই। দেশবাসীর দোয়া পেলেই আমরা সুন্দরভাবে চলে যেতে পারবো।'

আগের প্রতিবেদনের মন্তব্য উল্লেখ করে শাহনাজ বলেন, 'আমার স্বামী মারা যাওয়ার একদিন পর আপনাদের সাথে কথা বলেছিলাম। স্বামীকে হারিয়ে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। সেদিন অনেক কিছুই সুস্থির ছিল না। আপনাদের সংবাদের পর ফেসবুকে খুব বাজে বাজে কথা লেখা হয়। যেসব আমার আত্মীয় স্বজনদের চোখে পড়ে, তারা আমাদের জিজ্ঞেস করে; আমরা বিব্রত হই।'

তিনি বলেন, 'আমার তিন ছেলে-মেয়ে। তিনজনই মাশাল্লাহ ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে। তিনজনই পড়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজে। আমি সুন্দরভাবে বাচ্চাদের নিয়ে সংসার চালিয়ে নিতে পারবো। আমার কারো আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন নেই। আমি বলেছি- দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী দাঁড়ান, কারণ আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির আর্থিক সামর্থ্য সেই অর্থে নেই। অনেক ভালো ভালো শিল্পীকেও সহায়তা নিতে হয়। মাশাল্লাহ আমার আর্থিক নয়, শুধু দোয়া দরকার। বাকিটা আমি সামলে নিতে পারবো।'

"আমরা একেবারে 'সর্বস্বান্ত' হয়ে গেছি ভাই, আমার ছোট ছোট ছোট বাচ্চা, সব উনি সামলে রেখেছিলেন। হুট করে এভাবে চলে যাবেন, আমরা ভাবতেও পারছি না। কী করব না করব, কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।" গণমাধ্যমে এমন কথার ব্যাখ্যার শাহনাজ বলেন, 'স্বামীকে হারিয়ে আর কী থাকে মানুষের বলেন। একটা পরিবারের ছাদ তিনি। সেই ছাদ সরে গেলে তো মানুষের আর সেই অর্থে কিছুই থাকে না। এটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম।'