নাটক মঞ্চায়নের পর তাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদেছেন দর্শকেরা। কেউ কুশীলবের হাত ছুঁয়ে অনুভব করতে চেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকে। এক রিকশাচালক নিজের সারা দিনের কষ্টার্জিত বেতন কুশীলবের হাতে তুলে দিয়েছিলেন খুশিমনে।একেকটি রজনীতে নাটকটি মঞ্চায়িত হওয়ার পর এসব অনুভূতি নিয়ে ঘরে ফেরেন অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী। যে নাটকটির জন্য এই অনুভূতির প্রকাশ, সেটির নাম ‘লাল জমিন’।

নাটকটিতে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এক জীবন, দুরন্ত বালিকাজীবন। বর্ণিল কৈশোর, দুঃসহ বয়ঃসন্ধিকাল। মুহূর্তেই এককাল থেকে আরেককালে যাচ্ছেন তিনি। মঞ্চই বাড়ির উঠোন, খড় ছিটানো, এক্কাদোক্কা খেলা, ফসল ফলনের জায়গা, পদ্ম-শাপলা ফোটা বিল। দর্শকের সামনে পুরো মঞ্চটাই যেন হয়ে উঠে এক টুকরো বাংলাদেশ।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন নাটক মঞ্চায়ন বন্ধ থাকার পর এই ‘লালজমিন’ নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে আবারও থিয়েটারের দরজা খোলে ২৮ আগস্ট। এরপর গাজীপুর পুলিশ লাইনসে নাটকটির ২৪৫তম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।পুলিশ সদস্যদের উজ্জীবিত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ নাটকটির মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ২৪৫তম প্রদর্শনীর পর ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মঞ্চে আবার ‘লালজমিন’ মঞ্চায়িত হয়। এই নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়া মানেই দর্শকদের অন্যরকম এক অনুভূতি নিয়ে ঘরে ফেরা। 

মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করা সেই বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এবার ‘সুন্দর কেন্দ্র’  নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করছে দেশব্যাপী নাটকটির একাধিক প্রদর্শনীর। তারই অংশ হিসেবে  শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে নাটকটির দেশব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনের। 

শুন্যন রেপারটরি থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনা এবং ২৪৮তম মঞ্চায়নের ‘লালজমিন’ রচনা করেছেন মান্নান হীরা। নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী এবং অভিনয় করেছেন মোমেনা চৌধুরী।


বিষয় : লাল জমিন মঞ্চ নাটক

মন্তব্য করুন