ঢাকাই চলচ্চিত্রে প্রিয়দর্শিনী নায়িকা হিসেবেই পরিচিতি তার। সেই ১৯৯৪ সালে তার যাত্রা সালমান শাহের বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু। সে যাত্রা চলছে এখনও। প্রথম ছবি দিয়েই তারকা বনে গিয়েছিলেন। তিনি আর কেউ নন চিত্র নায়িকা মেৌসুমী। দুই যুগের বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা মৌসুমীর আজ জন্মদিন। বয়সকে হার মানিয়ে ৪৭ বছরে পা রাখলেন এবার। 

কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবি দিয়ে শুরুর পরই একের পর সুপারহিট ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। 

প্রতিবার বিশেষ এ দিনটা নানা আয়োজনে উদযাপন করলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ করোনার জন্য যাপিত জীবনের সব আয়োজন যেনো রঙহীন হয়ে গেছে। তাই মৌসুমীর এবারের জন্মদিনও আয়োজন করে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে উদযাপনের ইচ্ছে নেই। 

তবে মৌসুমীর মতো তারকার জন্মদিন একেবারেই যে রঙহীন যাবে তা কিন্তু নয়। উদযাপন হবে সেটা অবশ্যই ঘরোয়া আয়োজনে। এদিকে জানা গেছে, মৌসুমী ফ্যান ক্লাব এবং ওমর সানী ফ্যান ক্লাব আলাদাভাবে দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করবে।

১৯৭৩ সালে আজকের দিনে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। সেই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ার সালমানকে দিয়ে শুরু করেছিলেন মৌসুমী। এরপর ওমর সানী, ইলিয়াস কাঞ্চন, বাপ্পারাজ, জাহিদ হাসান, অমিত হাসান, রুবেল, মান্না, আমিন খান, ফেরদৌস, রিয়াজ, শাকিল খান ও শাকিব খানসহ ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় সব নায়কদের বিপরীতে কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন। সিনেমার পাশাপাশি টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপনেও সফল নাম মৌসুমী।

অভিনয়ের পাশাপাশি একজন নির্মাতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটেছে মৌসুমীর। নির্মাণেও তিনি নিজের নামের সৌরভ ছড়িয়েছেন। একজীবনে অনেক পুরস্কার ও স্বীকৃতি তিনি অর্জন করেছেন। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৩ সাল থেকে। কোটি মানুষের ভালোবাসা তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে হয়। আর রাষ্ট্র তাকে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেছে।