''আজ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি- আমি ভুল করিনি। ছোটলু ভাই আমাকে সঠিক পথেই নিয়ে গিয়েছিলেন। বলতে গেলে একটু জোর করেই। ওই জোরটুকু না করলে আমার জীবন কেমন হতো, জানি না! আমার নাটকের জীবন, পেশাগত জীবন আমাকে অনেক ভালোবেসে নিজ হাতে গড়ে দিয়েছেন''

১৯৭২ সালের শেষের দিকে। তখন আমি 'চিত্রালী' নামে একটি জনপ্রিয় সাপ্তাহিকীতে কাজ করি। চিত্রালী সম্পাদক এসএম পারভেজ আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দিলেন আলী যাকেরের সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য। তখন পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। যদিও তার বাড়িতে একবার গিয়েছিলাম সংস্কৃতি সংসদের 'মুক্তধারা' নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে। গিয়ে দেখি তার প্রচণ্ড জ্বর। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অভিনয় করতে পারলেন না। সম্ভবত মতি ভাই, হাসনাত ভাই সবাই মিলে গিয়েছিলাম। আমাকে মনে থাকার কথা নয়।

ইস্ট এশিয়াটিক অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড; মতিঝিলে করিম চেম্বার। বাংলাদেশ বিমান অফিসের পাশে। তিনি এ কোম্পানির বড় কর্মকর্তা।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক পড়ল। ঢুকে দেখলাম, এক বিশাল টেবিলের সামনে বসে আছেন বিশালদেহী মানুষ- আলী যাকের। বললেন, বসুন। চা, না কফি? ভাবলাম, কফি তো সহজে জোটে না। কফিই খাই (হয়তো জীবনে এটাই প্রথম কফি খাওয়া)। সাক্ষাৎকার শেষে বললেন, 'আমরা টিকিট বিক্রি করে নিয়মিত নাটক করার পরিকল্পনা করেছি। মহড়াও শুরু করেছি। দেখতে আসুন একদিন।' ঠিকানা নিয়ে রাখলাম। এক দিন গেলাম রিহার্সালে, সন্ধ্যাবেলায়। নাটকের নাম 'বাকি ইতিহাস'। নাট্যকার বাদল সরকার। ওখানে গিয়ে দেখি বেশ ক'জন পূর্বপরিচিত। স্বাধীনতার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে যেসব নাটক হয়েছিল, সেখানেই তাদের সঙ্গে চেনাজানা।

তারা সবাই বলে উঠলেন, 'এই তো, প্রম্পটার পাওয়া গেছে।' তারা জানতেন, এ কাজটা আমি ভালোই পারি। আলী যাকেরও অনুরোধ জানালেন। তখন রামেন্দুদা (রামেন্দু মজুমদার) 'থিয়েটার' পত্রিকা বের করতে শুরু করেছেন। আমি সেই পত্রিকার সহ-সম্পাদক। হুট করে নাগরিকে আমি যোগ দিই কীভাবে? রামেন্দুদার কাছে অনুমতি চাইলাম। রামেন্দুদা খুব একটা রাজি হচ্ছিলেন না। ফেরদৌসী আপা (ফেরদৌসী মজুমদার) অনুমতি আদায় করে দিলেন। আমি নাগরিকে যোগ দিলাম।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলী যাকের হয়ে গেলেন 'ছোটলু ভাই'। তিনি আপনি থেকে 'তুই' সম্বোধনে নামলেন। আমি 'তুমি'তে।

শুধু নাটক না; আমার জীবনও গড়ে দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার পর নানা সংকটে পড়ে গেলাম। মূলত অর্থ সংকট। ছোট চাকরি করি। চলতে পারি না। বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে মাস শেষে টাকা ধার করি; বেতন পেলে পরিশোধ করি। আবার মাস শেষে হাত পাতি।

প্রায় প্রতিদিনই মহড়া। আলী যাকেরের বাসা রাজারবাগে 'ছায়ানীড়' নামক একটি বাড়ির দোতলায়। ড্রয়িংরুমে মহড়া। চা-মুড়ি সহযোগে মহড়া চলছে। আমরা অনেকে রাতেও থেকে যাচ্ছি। রাতে দু'ডজন ডিম ভাজা, ডাল আর ভাত। থেকে যাওয়া মানে ধুন্ধুমার আড্ডা। আড্ডার মধ্যমণি ছোটলু ভাই। সেসব নিছক আড্ডা ছিল না। বিচিত্র সব বিষয় নিয়ে কথা হতো- নাটক থেকে শুরু করে রাজনীতি, কবিতা থেকে শুরু করে বিশ্বসাহিত্য, সংগীত থেকে শুরু করে প্রাণায়াম। কী হতো না সেখানে! আসতেন আমাদের সবার গুরু ওয়াহিদুল হক, সংগীতে সর্বদা নিমগ্ন মাহমুদুর রহমান বেনু। তাদের সঙ্গে যে সময়টা কাটত সে সময়টা ছিল দুর্লভ অভিজ্ঞতা। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও ছোটলু ভাইয়ের সমান দক্ষতা। শেকসপিয়র, বায়রন, শেলি, কিটস পড়ে শোনাতেন অপূর্ব দক্ষতায়। ব্যাখ্যা করতেন অন্তর্নিহিত নির্যাস। সে স্বাদ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছি আমি। একবার ছোটলু ভাই ধরে নিয়ে এলেন নাটকের কিংবদন্তি পুরুষ উৎপল দত্তকে। পাঠ করলেন শেকসপিয়র; কণ্ঠস্থ। আমরা বিস্ময়ে অভিভূত। ছোটলু ভাইয়ের মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাটটি ছিল আমাদের নাটকের পাঠশালা। 'বাকি ইতিহাস' ছোটলু ভাইয়ের প্রথম পরিচালনা। নিজে অভিনয় করেননি। নির্দেশক ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রদর্শনী ব্রিটিশ কাউন্সিল মঞ্চে; বেলা ১১টায়। সাদামাটা সেট। নূ্যনতম কারিগরি ব্যবস্থায় অসাধারণ আলো-অন্ধকারের খেলা। অভিনয়ও ছিল দুর্দান্ত। ছোটলু ভাই আবেগাপ্লুত। সেদিন, যতদূর মনে পড়ে হলভর্তি দর্শক ছিল না। কিন্তু পরদিন থেকে উপচেপড়া দর্শক। শুরু হলো বাংলাদেশে মঞ্চনাটকের জয়যাত্রা এবং সে জয়যাত্রার নায়ক আলী যাকের।

এর পর থেকে নাগরিক একের পর এক নাটক মঞ্চায়ন শুরু করল। প্রায় সবই বিদেশি নাটকের রূপান্তর কিংবা অনুবাদ। এসবের মধ্যে অধিকাংশই আলী যাকেরকৃত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমিও তার সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। যেমন 'সৎ মানুষের খোঁজে'। বের্টল্ড ব্রেখটের 'গুড পারসন অব সেটজুয়ান' অবলম্বনে 'সৎ মানুষের খোঁজে'। বইটি হাতে পেয়ে ছোটলু ভাই আমাকে বললেন, 'তুই পুরোটা আগে অনুবাদ করে ফেল। আমি পরে রূপান্তর করব।' প্রসঙ্গত, আমি তখন একটি দূতাবাসে অনুবাদ ও গণসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করি। অনুবাদ করে ফেললাম। এর পর শুরু হলো রূপান্তরের কাজ। সেখানেও আমি তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি। ছোটলু ভাই আমার রূপান্তর করা 'দেওয়ান গাজীর কিস্‌সা' গ্রন্থের ভূমিকায় উপরোক্ত নাটক সম্পর্কে নিজেই লিখেছেন, 'ব্রেখটের এ নাটকটি প্রথমে অনূদিত হয় বাংলায়। অনুবাদ করেন আসাদুজ্জামান নূর। সেই অনূদিত নাটকের ওপর ভিত্তি করে আমি নাটকটি রূপান্তর করি। সেই রূপান্তরেও আসাদুজ্জামান নূরের যে অবদান, যে পরিশ্রম, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।' এই কথাগুলো আমার সারাজীবনের অমূল্য সঞ্চয়। বস্তুত ছোটলু ভাই আমাকে একটা নতুন পথ দেখালেন- অনুবাদের পথ, রূপান্তরের পথ।

এর পরও তার সঙ্গে ছিলাম মলিয়েরের ইন্টেলেকচুয়াল লেডি অবলম্বনে 'বিদগ্ধ রমণীকুল' রূপান্তরের কাজে। আর এই নাটকটি মঞ্চস্থ হতো আরেকটি নাটকের সঙ্গে- সদ্য প্রয়াত রশীদ হায়দারের 'তৈল সংকট'। একটি ইন্টারভেলের আগে, আরেকটি পরে। এই 'তৈল সংকট' দিয়েই আমার নিয়মিত মঞ্চাভিনয়ের যাত্রা শুরু। কাহিনিটি লম্বা; বলেছি অনেকবার। তবুও সংক্ষেপে বলি। মহড়া চলাকালীন প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী বাদল রহমানের ঘুষি লেগে (অসাবধানতাবশত) আবুল হায়াতের নাক গেল ফেটে। তিনি এ নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন। রক্তারক্তি অবস্থা। হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। ডাক্তার বললেন, আগামী এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হবে। কী করা! আলী যাকের দুটি নাটকেরই নির্দেশক। তিনি সিদ্ধান্ত দিলেন, নূর যেহেতু প্রতিদিন রিহার্সালে প্রম্পট করে, মোটামুটি সব সংলাপই ওর মাথায় আছে। ওকেই এ চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। আমার মাথায় বাজ। অভিনয়! স্কুল-কলেজ আর সংস্কৃতি সংসদের নাটকে কখনও-সখনও ছোটখাটো দু-একটা চরিত্রে অভিনয় করেছি বটে। সেগুলোকে ঠিক অভিনয় বলা চলে না। কিন্তু নির্দেশকের হুকুম- মানতেই হবে। দু'দিন পরে শো। প্রধান নারী চরিত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল। দিনরাত মহড়া দিয়ে মঞ্চে নামলাম। বলতে গেলে ছোটলু ভাই প্রায় আমাকে গলাধাক্কা দিয়ে উইংসের পাশ থেকে মঞ্চে ঢুকিয়ে দিলেন। এবারও তিনি আরেক নতুন পথে নিয়ে গেলেন- অভিনয়। এভাবেই শুরু হলো আমার নিয়মিত মঞ্চাভিনয়ের পালা।

নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় তখন একের পর এক নাটক করে চলেছে। কিন্তুু নাটক লেখার মানুষ তো খুব কম। শ্রদ্ধাভাজন আবদুল্লাহ আল-মামুন লিখছেন তার দল 'থিয়েটার'-এর জন্য। মমতাজ স্যার লিখছেন থিয়েটারের জন্য। তিনি ওই দলের সদস্য। মামুনুর রশীদ লিখছেন তার নিজের দল 'আরণ্যক'-এর জন্য। সেলিম আল দীন তখন বিপুল আলোচনায় তার নবধারা সৃজনের জন্য। তিনিও লিখছেন তার দল 'ঢাকা থিয়েটার'-এর জন্য। সৈয়দ শামসুল হক লিখলেন 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'। দিলেন 'থিয়েটার'কে। আমরা নাটক পাই কোথায়? অতএব বিদেশি নাটকের অনুবাদ অথবা রূপান্তর। আমাদের দল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাম হলো 'সাহেব দল'। আমরা বিদেশি নাটক করি। এদিকে আলী যাকের একের পর এক বিদেশি নাটকের রূপান্তর করে চলেছেন। এক পর্যায়ে আমাকে বললেন, 'এবার তুই কর। তুই পারবি। তুই যে ক'টা নাটকে আমার সঙ্গে কাজ করেছিস, তাতে আমার স্থির বিশ্বাস- তুই পারবি।' এ আরেক বিপদ। অন্যেরাও সমর্থন করলেন। আলী যাকের আমার হাতে তুলে দিলেন 'পুন্টিলা অ্যান্ড হিজ ম্যান মাট্টি'। রূপান্তরিত হলো 'দেওয়ান গাজীর কিস্‌সা' নামে। শুরু থেকেই আমি ভাবছিলাম, এমন একটি আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করব, যা সবাই বুঝবে এবং বাংলাদেশে সামন্ততান্ত্রিক শোষণ, নির্যাতন উঠে আসবে এবং প্রতিবাদও। ব্রেখটের অনেক নাটকে নাচ-গান থাকে। আমি তার প্রভূত ব্যবহার করেছিলাম। যাক সে প্রসঙ্গ। প্রথম দৃশ্যটা লেখা হলে আমি যখন ছোটলু ভাইকে শোনালাম; ছোটলু ভাই লাফিয়ে উঠে বললেন, ব্যস, জমে গেছে। এর পর 'দেওয়ান গাজী' ইতিহাস। ইতিহাস গড়লেন আলী যাকের; তার দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে। এ চরিত্র করার সাহস আজ পর্যন্ত কেউ করল না। কেউ সাহস করেনি নূরলদীন বা গ্যালিলিও চরিত্রে অভিনয় করতে। আমি আবারও তার হাত ধরে এবার প্রবেশ করলাম অসীম সাহসে স্বাধীনভাবে রূপান্তরের কাজে। এর আগে ছিলাম তার সহযোগী। এবার তিনি সাহস জোগালেন- এগিয়ে যা।
তার নির্দেশনায় 'নূরলদীনের সারাজীবন'-এ 'আব্বাস', 'কোপেনিকের ক্যাপ্টেন' নাটকে 'ক্যাপ্টেন', 'খাট্টা তামাশা'য় 'ভূতিবাবু' চরিত্রে অভিনয় করেছি, যা আমার অভিনয় জীবনের বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা; অভিনেতা হিসেবে অনেক বড় প্রাপ্তি। কতভাবে শিখেছি নিজেকে সংহত করতে, সংযত করতে, প্রকাশ করতে, প্রক্ষেপণ করতে! মাঝেমধ্যে মনে হতো, তিনি আমাদের কী শেখাচ্ছেন- শিল্প, না বিজ্ঞান? ধারালো পর্যবেক্ষণ, নিখুঁত দিকনির্দেশনা, শরীরের ভঙ্গিমা, মুখমণ্ডলের প্রকাশভঙ্গি নির্মাণ- সবকিছু তার কাছেই শেখা।

শুধু নাটক না; আমার জীবনও গড়ে দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার পর নানা সংকটে পড়ে গেলাম। মূলত অর্থ সংকট। ছোট চাকরি করি। চলতে পারি না। বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে মাস শেষে টাকা ধার করি; বেতন পেলে পরিশোধ করি। আবার মাস শেষে হাত পাতি। একটা সাইকেলে চলাফেরা করি। বাস ভাড়া লাগে না। এর পর একটি বিদেশি দূতাবাসে চাকরি পেলাম। ধানমন্ডিতে অফিস। জিগাতলায় মনেশ্বর রোডে একটি অতিসাধারণ বাসা ভাড়া নিলাম। পাশেই হাজারীবাগ ট্যানারি। চামড়ার দুর্গন্ধে বাড়িতে অতিথি আসে না। একদিক দিয়ে ভালোই। অতিথি আপ্যায়নের খরচ লাগে না। বেলা ২টা পর্যন্ত অফিস করে সাইকেল চালিয়ে মতিঝিলে যাই এশিয়াটিকে বিজ্ঞাপনের কপি লিখতে। প্রতিদিন তো আর কপি লেখা থাকে না। কোনো কোনোদিন থাকে। কপি অনুমোদিত হলে কিছু পয়সা পাই। একদিন ছোটলু ভাই ডেকে বললেন, তুই এশিয়াটিকে যোগ দে। এত টাকা পাবি। আমি বললাম, 'ছোটলু ভাই, আমি এখন যে বেতন পাই এ তো তার চেয়ে কম; চলব কী করে!' তিনি উত্তরে বললেন, 'আপাতত একটু কষ্ট কর। দূতাবাসে চাকরির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ওখানে হয়তো কিছু বেতন বাড়বে। কিন্তু এক সময় তো থেমে যাবে। বিদেশি দূতাবাসে তোর ভবিষ্যৎ কী? এখানে আয়, একসঙ্গে কাজ করি।' 

চাকরিটা ছেড়ে এশিয়াটিকে যোগ দিলাম। আজ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি- আমি ভুল করিনি। ছোটলু ভাই আমাকে সঠিক পথেই নিয়ে গিয়েছিলেন। বলতে গেলে একটু জোর করেই। ওই জোরটুকু না করলে আমার জীবন কেমন হতো, জানি না! আমার নাটকের জীবন, পেশাগত জীবন আমাকে অনেক ভালোবেসে নিজ হাতে গড়ে দিয়েছেন। তাই কেউ জিজ্ঞেস করলে বলি, ছোটলু ভাই আমার পিতৃতুল্য বন্ধু।