''ভয় না পেলে আসলে অনেক কিছু পাওয়া যায়। আয়েশা চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে যে কষ্ট আমাকে করতে হয়েছে, সেটা যদি ভয় পেয়ে বাদ দিতাম, তাহলে এ সম্মান  আমি পেতাম না। জাতীয় পুরস্কারের মতো এতো বড় অর্জন হাতছাড়া হয়ে যেত। ভয় পেলে সত্যিই কিছু করা যায় না। তাই কোন কাজে ডরানো যাবে না -এ শিক্ষাটা ভালো করে অর্জন করেছি। 'ন ডরাই' করার পর কোন কিছুতে আমিও এখন 'ন ডরাই''- বলছিলেন  অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। 

২০১৯ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ‘ন ডরাই’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এ সম্মান অর্জন করলেন সুনেরাহ। এটি  তার প্রথম চলচ্চিত্র। প্রথম চলচ্চিত্রেই বাজিমাত! বিষয়টি নিয়ে আবেগে আপ্লুত তিনি। তার সঙ্গে কথা বলার সময় টের পাওয়া গেল সে আবেগের গভীরতা

'ছবিটির জন্য অনেক কষ্ট করেছি সেটাই এখন বার বার মনে পড়ছে। কষ্ট করলে যে ফল মেলে তার প্রমাণ স্বয়ং আমি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ায় বাবা-মা আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করছেন। এটা সন্তানের কাছে অনেক বড় অর্জন।'


সুনেরাহ বললেন, ''এতো বড় অর্জন আমার ভাগ্যে আসবে, এটা তো আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। 'ন ডরাই' আমাকে মানুষের ভালোবাসা দিয়েছে। তবে জাতীয় মঞ্চে এতোটা দেবে তা আমার কল্পনার বাইরে।'' 

সুনেরাহ বিনতে কামাল

সাধারণ র‌্যাম্পে সবসময় গ্ল্যামার লুকেই দেখা গেছে সুনেরাহকে। 'ন ডরাই' ছবিতে সে ধারার বাইরে এসে অন্য এক সুনেরাহ হয়ে ওঠেন তিনি, যে সুনেরাহ একেবারে অপরিচিত। নেই গ্ল্যামার, নেই লাইটের ঝলকানি, ছিলো কেবল রোদ আর সমুদ্রের নোনা জলে তামাটে হয়ে যাওয়া, আয়েশা চরিত্রের অভিনয়। তবে আয়েশা হয়ে ওঠার পেছনে 'ন ডরাই'য়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই যে সহযোগিতা করেছেন তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সুনেরাহ। 

নিজের ভালোলাগা থেকেই শোবিজে কাজ শুরু সুনেরাহর। ম্যারাথন গতিতে ছুটছিলেন ক্যারিয়ার নিয়ে। এই সুনেরাহ যে এক ছবিতে অভিনয় করেই এতোটা গুরত্বপূর্ণ কেউ হয়ে উঠবেন তা ভাবেনি তার পরিবারও। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরা এখন সুনেরাহকে নিয়ে গর্ব করছেন। 

সুনেরাহ বলেন, বলেন, 'পুরস্কার পাওয়ার পর সবাই ফোন করে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আসলে ছবিটির জন্য অনেক কষ্ট করেছি, সেটাই এখন বার বার মনে পড়ছে। কষ্ট করলে যে কেষ্ট মিলে তার প্রমাণ স্বয়ং আমি।'