রিচি সোলায়মান। মডেল ও অভিনেত্রী। নন্দিত এই অভিনেত্রীর জন্মদিন আজ। এই শুভদিনটি উদযাপন, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

সমকালের পক্ষ থেকে আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

শুভেচ্ছার জন্য সমকাল পরিবারের সবাইকেও অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

এবার জানতে চাই, দিনটি কীভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন?

এ দিনটি কখনও আমার ঘটা করে উদযাপন করা হয় না। দেশে এবার চার বছর পর জন্মদিন উদযাপন করছি; তবে ঘটা করে নয়। এতদিন যা কিছু করেছি তা ভক্তদের জন্যই। ২৩ জানুয়ারি এলেই ভক্তরা ফোনে বা ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানান। কেউ উপহার পাঠান, কেক নিয়ে বাসায় হাজির হন। তাদের খুশি করতেই ঘরোয়া আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করা হয়। সাধারণত জন্মদিনে এতিম শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাই। করোনার কারণে এবার এতিমখানায় যাওয়া হচ্ছে না। নীলফামারীতে পারিবারিক কবরস্থানের পাশে এতিমখানায় লোকের মাধ্যমে খাবার পাঠাব। আজ দুপুরে চ্যানেল আইয়ের 'তারকা কথন' অনুষ্ঠানে অংশ নেব। সব মিলিয়ে ব্যস্ততায় কাটবে দিনটি। রাতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব।

শৈশবের জন্মদিনের কথা মনে পড়ে নিশ্চয়ই?

প্রতিটি জন্মদিন নতুন অনুভূতির। শৈশবের জন্মদিন তো সবসময়ই রঙিন। শৈশবের দিনগুলো ঢাকায় কেটেছে। নতুন জামাকাপড় পরতাম। আব্বু কেকের সঙ্গে মিষ্টি নিয়ে আসতেন। মিষ্টি খাইয়ে রাত ১২টায় কেক কাটা হতো। জন্মদিনে বই পেলে সবচেয়ে খুশি হতাম। এখন অনেক কিছুই মিস করি।

অভিনয়কে কি মিস করেন না?

একেবারেই যে মিস করি না, তা নয়। চিরচেনা ভুবনে ফিরতে সবারই ভালো লাগে। দেশে এলে অনেকে প্রশ্ন করেছেন- হাতে যখন সময় আছে, তখন অভিনয় থেকে দূরে কেন? এ প্রশ্নের কী উত্তর দেব? তাছাড়া প্রিয় মানুষদের জন্য বসে থাকার উপায় নেই। দেশে যখনই ফিরি সময়-সুযোগ পেলেই অভিনয় করি। সম্প্রতি চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় 'মন কেমনের দিন' নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছি। এতে আমার বিপরীতে রয়েছেন আনিসুর রহমান মিলন।

দেড় বছর পর দেশে এসেছেন। কতদিনের জন্য এবারের সফর?

মাত্র এক মাসের জন্য এসেছি। এবারে খুব বেশিদিন থাকতে পারব না। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাব। দেশে ফিরে প্রথমে রংপুরে দাদার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পারিবারিক কিছু কাজ ছিল সেখানে। সপ্তাহখানেক ছিলাম। এর পর ঢাকায় এসে নাটকের শুটিং করেছি।

টিভি নাটকের অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে?

টিভি নাটকের অবস্থা তেমন ভালো নয়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকায় নাটকের দুরবস্থা হয়েছে। আগে একটি নাটকের অনেক চরিত্র থাকত। এখন প্রেম ছাড়া গল্প দেখতে পাই না। বাজেট স্বল্পতার কারণে দুটি চরিত্র নিয়ে গল্প হচ্ছে। তবে বাজেট কম থাকায় সারাক্ষণ সবার একটা চাপ থাকে। এ সমস্যা থেকে আমরা এখনও বের হতে পারিনি।

চলচ্চিত্র প্রযোজনার কথা বলেছিলেন...

ইনশাআল্লাহ, অবশ্যই প্রযোজনায় আসব। সবকিছু গুছিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করতে চাই। সৃষ্টিশীল কাজে অনেক মনোযোগী হতে হয়। আমার মেয়ের বয়স সাড়ে তিন বছর। তাকে সময় দিতে হয়। এ বছরের সেপ্টেম্বরে মেয়ে স্কুলে যাবে। তখন হাতে অনেক সময় পাব। এর পরই ছবি প্রযোজনা করার পরিকল্পনা করব।