স্বাধীনচেতা নারী হিসেবেই পরিচিত এক সময়কার মডেল রিয়া পিল্লাইয়ের। নিজের মতো জীবন যাপন এ নারী এখন মেয়ের চিকিৎসায় সর্বশান্ত হতে বসেছেন। জীবনযুদ্ধও চালিয়ে যাচ্ছেন একাই।

১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া রিয়ার বাবা রেমন্ড পিল্লাই মালয়লমভাষী। রেমন্ডের মা ছিলেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। খ্রিস্টধর্মাবলম্বী হিসেবে ছেলেকে বড় করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, হায়দরাবাদের মহারাজ নরসিঙ্গির ধনরাজগীর জ্ঞান বাহাদুর বিয়ে করেছিলেন এক সময়ের নামী নায়িকা জুবেইদাকে। এই দম্পতির ছেলে হুমায়ুন ধনরাজগীর এবং মেয়ে ধুরেশ্বর ধনরাজগীর। এই ধুরেশ্বরের মেয়ে রিয়া। 

বলিউডে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রিয়া একজন ইয়োগা প্রশিক্ষকও। ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন আমেরিকার নাগরিক মাইকেল ভাজকে। বিয়ের পর দু'জনের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যার শেষে হয় ১৯৯৪ সালে বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে।

এরপর রিয়ার সঙ্গে আলাপ হয় বলিউড সুপারস্টার সঞ্জয় দত্তের। টাডা আইনে অভিযুক্ত সঞ্জয় তখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। রিচা শর্মার সঙ্গে তার প্রথম বিয়েও ভেঙে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রিয়ার সঙ্গে পরিচয় ও প্রণয় সঞ্জয়ের। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন এ জুটি। তবে কয়েক বছর পরই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। বেশ কয়েক বছর আলাদা থাকার পর ২০০৮ সালে হয় বিবাহ বিচ্ছেদ। 

পরে টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজের সঙ্গে জড়িয়ে যান রিয়া। অভিনেত্রী মহিমা চৌধুরীর সঙ্গে লিয়েন্ডারের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তাদের এ প্রণয়ের শুরু। ২০০৫ থেকে লি-রিয়া একঙ্গে থাকতে শুরু করেন। আইয়ানা নামের এক সন্তান হয় তাদের। অবশ্য এ সংসারও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। সম্পর্ক খারাপ হওয়ার এক পর্যায়ে লিয়েন্ডার ও তার বাবা ভেস পেজের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতে যান রিয়া। এরপর ২০১৪ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন এ দম্পতি। 

তৃতীয় সম্পর্ক বিচ্ছেদের দু'বছরের মধ্যে জীবনে জটিলতা বাড়তে থাকে রিয়ার। ২০১৬ সালে জানতে পারেন, মেয়ে আইয়ানা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

এ সময় রিয়া অভিযোগ করেন, লিয়েন্ডার তাদের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট অর্থ দেন না। তিনি লিয়েন্ডারের কাছে প্রতি মাসে ২ লাখ ৬২ হাজার রুপি দাবি করেছিলেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার রুপি ছিল আইয়ানার চিকিৎসার খরচ।

লিয়েন্ডার তাকে প্রতিমাসে দেড় লাখ রুপি দিতেন বলে দাবি রিয়ার। ফলে মেয়ের চিকিৎসার জন্য তাকে পরিচিতমহলে হাত পাততে হয়েছে বলেও অভিযোগ সাবেক এ মডেলের।

তবে লিয়েন্ডারের দাবি, তিনি রিয়াকে কখনই বিয়ে করেননি। তাই রিয়া ও মেয়ে আইয়ানার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন তিনি। তার এ বক্তব্য অমানবিক বলে মন্তব্য করেন রিয়ার ঘনিষ্ঠরা।

রিয়ার দাবি, বেশ কয়েক বছর লিয়েন্ডারের পাসপোর্টে 'স্পাউস নেম'-এর জায়গায় তার নাম ছিল। পরে তার বাদ দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেন লিয়েন্ডার। মেয়ের চিকিৎসার জন্য টাকা চাইতে গেলে আর্থিক সঞ্চয় না থাকার কথা জানান লিয়েন্ডার।

মেয়ের অসুস্থতা সাবেক এ তারকা দম্পতির মধ্যে বিরোধ দূর করতে পারেনি। ফলে মেয়ের চিকিৎসা একাই চালিয়ে যাচ্ছেন রিয়া। আইয়ানার চিকিৎসাভার বহন করতে গিয়ে পড়েছেন চরম অর্থকষ্টে। এখন মেয়ে আইয়ানাকেই জীবনের অনুপ্রেরণা ও চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন  হার না মানা এ নারী।

মন্তব্য করুন