তিনি নকল শাহরুখ। তবে সত্যিকার অর্থে তিনি তারকা নন। আবার তারকা বললেও ভুল হবে না।  নাম রাজু রাহিওয়ার। দেখতে  হুবহু শাহরুখ খান।  কর্পোরেট শো-তে শাহরুখের প্রক্সি দিয়ে, বা কমার্শিয়াল শুটে বডি ডাবল হিসেবে কাজ করেন তিনি। তার আশপাশের সবাই তাকে জুনিয়র শাহরুখ বলেই ডাকেন। এ নামে ডাকলে বেশ আনন্দ পান তিনি। গর্বিতও হোন রাজু। 

ভারতে  কর্পোরেট শো-তে  পারফর্ম ও শাহরুখ খানের প্রক্সি দিয়ে ভালোই চলছিলো রাজুর জীবন। কিন্তু জীবন থমকে দিলো করোনা। ক্ষুদ্র এই অণূজীবের আক্রমণে উলট-পালট হয়ে গেলো পৃথিবী। অন্যদের মতো জীবন থমকে গেছে এই শাহরুখ খান জুনিয়রেরও। করোনার কাণে  দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। অভাব অনটনে কাটছে রাজুর জীবনও।  

লকডাউনের আগে রাজু কাজ করতেন ইন্ডাস্ট্রি এবং কর্পোরেট শোতে। করোনাভাইরাসের কারণে এখন কোনো ইভেন্টের আয়োজন নেই, তাই কাজ নেই রাজুর। তাই অর্থকষ্টে দিন যাপন তার।  

রাজু রাহিওয়ার করোনায়  ৫৬ দিন ঘরে বন্দি থেকেছেন। ঘর থেকে বের যখন হলেন তখন আর রাজুর কাজ নেই। কঠিন এ অবস্থায় তার বন্ধু রাজেশ মালায়ারের সঙ্গে মাস্ক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। রক্তে যার মিডিয়ায় কাজের নেশা। সে তো অন্য কাজে অনভিজ্ঞ। তাই ব্যবসাতেও সুবিধা করতে পারেনি। রাজুর ব্যবসার অভিজ্ঞতা  না থাকলেও  প্রচার করতে পারেন। তাই পণ্যের প্রচার শুরু করলেন। এভাবে কিছুটা আয় করতে পেরেছেন তিনি।

পিঙ্কভিলায় দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজু বলেন, ‘আমি ইভেন্ট ম্যানেজারদের নম্বর খুঁজছি গুগলে। সম্ভাব্য শোয়ের ব্যাপারে খোঁজ নেই। কয়েক মাস আগে সোনু সুদ সাহেবকে টুইট করেছি কাজের জন্য। আমার কাঁধে অনেক দায়িত্ব, কাজ দরকার। কয়েকদিন আগে বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে এসেছিল। কী আর বলবো! সত্যটা হলো আমি কারও টাকা চাই না, কাজ চাই।’

রাজু জানান, লকডাউন শুরু হওয়ার আগে তিনি সালমান খানের থেকে ৩০০০ রুপি আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। অক্ষয় কুমারের থেকেও ৩০০০ রুপি পেয়েছেন এই শিল্পী।

মন্তব্য করুন