•  বিদ্যা সিনহা মিম। তারকা অভিনেত্রী ও মডেল। সম্প্রতি 'নট হার ফল্ট' নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

'নট হার ফল্ট' ছবিতে অভিনয়ের আগে কোন বিষয়টি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল?

কোনো কাজ করার আগে গল্প ও চরিত্র যাচাই-বাছাই করে নিই। এরপর নির্মাতা, বাজেট ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করি। 'নট হার ফল্ট' ছবির গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে জানার পর, কাজের বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে দুটি বিষয়ই হলো এই ছবির প্রাণ।

ছবিটি অল্প সময়ে দর্শকের মাঝে এত সাড়া ফেলবে, তা কি অনুমান করেছিলেন?

ছবিটি দর্শকদের ভাবনার খোরাক জোগাবে- এটুকু ধারণা ছিল। কারণ এই ছবিতে শ্নীলতাহানির শিকার নারীর প্রতি সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে আমরা দেখি, সমাজের বেশিরভাগ মানুষ শ্নীলতাহানির শিকার নারীকেই অপরাধী মনে করে। তার দিকে ছুড়ে দেয় কলঙ্কের কালি। এই মানসিকতা বদলে দেওয়ার চেষ্টা থেকেই আমাদের এই ছবি।

শুনলাম 'নট হার ফল্ট' ছবিতে অভিনয়ের জন্য আপনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি?

হ্যাঁ, ছবিটির জন্য আমি পারিশ্রমিক নেইনি। কাজটি করেছি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাই পারিশ্রমিক নিয়ে একদমই ভাবিনি। তাছাড়া অভিনয়ের বিষয়ে অর্থকে সবসময় বড় করে দেখিনি। 'নট হার ফল্ট' ছবিতে অভিনয়ের আগে এটাই ভেবেছি, নির্যাতনের শিকার নারীদের পক্ষ হয়ে সমাজকে এই বার্তা দেওয়া উচিত যে, সবাই যেন তাদের প্রতি মানবিক হন।

অন্য যে ছবিগুলোয় অভিনয় করছেন, তার কাজ কতটুকু এগোল?

রায়হান রাফির 'পরান' ছবির কাজ শেষ করেছি বেশ কিছুদিন আগে। এটি নিখাদ প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি 'দামালে' অভিনয় করলাম। 'দামাল' নামের এই ছবিও পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফি। মুক্তিযুদ্ধ এবং ফুটবল খেলার মতো দুটি বিষয় 'দামাল' ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে এর আগে কোনো ছবিতে দেখানো হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

আজকাল অভিনয়ের বিষয়ে একটু বেশি বাছবিচার করছেন মনে হচ্ছে?

শিল্পীরা বেঁচে থাকেন তাদের কাজের মধ্য দিয়ে। এই উপলব্ধি থেকেই এখন চাইছি, এমন কিছু কাজ করতে, যা আমাকে দর্শকের মাঝে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখবে। তাই চেষ্টা করছি ভিন্ন ধাঁচের এবং নিজের ভালো লাগে, এমন কিছু গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করতে। একই রকম চরিত্রে নিজেকে বারবার পর্দায় তুলে ধরতে চাই না। তাই অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে নতুনরূপে পর্দায় আসতে চাই।

আবার উপস্থাপনায় দেখা যাবে কি?

লকডাউনের সময় ঘরবন্দিকে কাজে লাগাতে 'মিমস কাস্টডি' অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছিলাম। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের আয়োজন বলেই উপস্থাপনা করেছি। শখের বশেই এটা করেছি, পেশাদারি কোনো ভাবনা ছিল না। তাই আবার কবে উপস্থাপনায় দেখা যাবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

মন্তব্য করুন