• তৌকীর আহমেদ। অভিনেতা ও নির্মাতা। চ্যানেল আইতে প্রচার হচ্ছে তার পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক 'রূপালী জ্যোৎস্নায়'। তিনি এখন কলকাতায় রয়েছেন  'স্ফুলিঙ্গ' চলচ্চিত্রের সম্পাদনা নিয়ে। কথা হলো তার সঙ্গে 


আপনার 'স্ফুলিঙ্গ' ছবিটি মুক্তির কথা ছিল। হঠাৎ মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার কারণ কী?

১৯ মার্চ ছবিটি মুক্তির লক্ষ্যে কাজ শেষ করেছিলাম। এরপর বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্রও পেয়েছি। তারপরও কিছু জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না। জাতির পিতার জন্মদিন ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ছবিটি মুক্তি দিতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু তা হচ্ছে না।

তাহলে কবে নাগাদ ছবিটি মুক্তি পেতে পারে?

তা এখনও বলা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আগামী মাস থেকে রোজা শুরু। সে সময় আমাদের দেশে নতুন কোনো ছবি মুক্তি পায় না। আর 'স্ফুলিঙ্গ' ঈদের ছবিও নয়। তারপর নতুন করে আবারও করোনার প্রকোপ বেড়েছে। আশা করছি খুব শিগগির ছবিটি মুক্তির নতুন তারিখ ঘোষণা করবো।

ছবিটি নিয়ে কেমন আশাবাদী?

স্বপ্নের বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রযোজনায় নির্মিত 'স্ফুলিঙ্গ' ছবির গল্প একটি ব্যান্ড দলকে ঘিরে। মূলত, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও চেতনার সঙ্গে তারুণ্যের একটি মেলবন্ধন পাওয়া যাবে এই সিনেমায়। এই গল্পে নতুনত্ব ও তারুণ্যের শক্তি আছে। রয়েছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ চেতনার আবহ। সব মিলিয়ে এই ছবি অনেকের মনে দাগ কাটবে বলেই আশা করছি। তারুণ্যের চোখে মুক্তিযুদ্ধকে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান তারুণ্যের চোখে '৭১ সালের তারুণ্যকে দেখানো হয়েছে। এ সময়ে একজন দর্শক মুক্তিযুদ্ধের সময়কে খুঁজে পাবেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সংগ্রামের কথাও উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন, তার আদর্শ এবং তিনি যে জাতির স্থপতি- বিষয়টি আরেকবার তরুণ সমাজের কাছে তুলে ধরতে চাই। এ কারণে আজকের তারুণ্য ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তারুণ্যকে এক ফ্রেমে তুলে ধরেছি।

শুনলাম কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করবেন...

ঠিকই শুনেছেন। কয়েক বছর ধরে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে একটি ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করছি। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি আছে। মূলত অর্থায়নের অভাবেই শুরু করতে পারিনি। একটু দেরিতে হলেও ভালো কিছু নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে চাই।

চ্যানেল আইতে প্রচার হচ্ছে আপনার পরিচালনায় নির্মিত ধারাবাহিক 'রূপালী জ্যোৎস্নায়'। নাটকটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

এরই মধ্যে নাটকটির ৭৮ পর্ব প্রচার হয়েছে। গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। দর্শকের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাবা-মা, ভাইবোন, বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে পারিবারিক আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সময়ের উল্টো স্রোতে দাঁড়িয়ে একটি কাজের ইচ্ছা ছিল, যা প্রকাশ পেয়েছে নাটকটিতে। গেল কয়েক বছর ধরেই দর্শকের অভিযোগ ছিল- নাটক থেকে পরিবার হারিয়ে গেছে, পারিবারিক ক্রাইসিস-আনন্দগুলো আর দেখা যায় না। একটা সময় বিটিভিতে যা নিয়মিত ছিল ধারাবাহিকগুলোতে। সেই ভাবনা থেকেই নাটকটি নির্মাণ করেছি।

লেখালেখির কী খবর?

একটি মঞ্চ নাটক লিখেছি। নাম 'অন্ধকার'। আসছে বইমেলায় তা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু নানা ব্যস্ততায় প্রকাশ হচ্ছে না।