কঙ্গনা রানাউতকে সবাই স্পষ্টভাষী এবং ঠোঁটকাটা হিসেবেই চিনেন। এ স্বভাবের ফলে ঝামেলায় তাকে কম জড়াতে হয়না। তবুও এমন স্বভাব ছাড়তে চান না তিনি। বলি কুইন পরিস্কার জানিয়েছেন, কিশোরী বয়স থেকে তিনি এই রকম। নিজেকে বদলাতে পারবেন না কখনো। এমনকি বাড়ির সকলের সঙ্গেও অভিনেত্রী এমনই। 

ঠোঁটকাটা স্বভবের এই মেয়েটিই এবার বলিউডের সেরা অভিনেত্রীর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ।‘মণিকর্ণিকা দ্য ক্যুইন অফ ঝাঁসি’ ছবির জন্য সেরা হলেন তিনি। তবে এ অর্জন প্রথম নয় কঙ্গনার। এবার নিয়ে  চতুর্থবারের মতো জাতীয় পুরস্কারটি পেলেন কঙ্গনা।  এর আগে ‘ফ্যাশন’, ‘কুইন’ এবং ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন কঙ্গনা।

একের পর এক জাতীয় স্বীকৃতি ঘরে তুলে নেওয়া কঙ্গনার ঘর কিন্তু তার জন্ম মেনে নিতে পারছিলো না। এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা জানিয়েছেন, পরিবারের প্রথম সন্তান হওয়ার জন্য তার দিদি রাঙ্গোলি চান্দেলের জন্মর সময় গোটা পরিবার উদযাপন করেছিলেন। তার আগে তাদের দশ দিনের পুত্র সন্তান মারা গিয়েছিল। যাই হোক, কঙ্গনা বাড়ির দ্বিতীয় কন্যা সন্তান হওয়ার দরুন, সেটা কোনো উদযাপনে পরিণত হয়নি। পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, আমি যখন জন্মেছিলাম, আমার বাবা-মা, বিশেষ করে আমার মা, কোনো মতেই মেনে নিতে পারছিলেন না দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে হয়েছে। এই গল্পগুলো আমি বেশি করে জানি কারণ, প্রত্যেকবার বাড়িতে যখন কোনো অনুষ্ঠান হত অথবা সবাই এক জায়গায় সামিল হত, এই গল্পটাই বারবার বলত, যে আমি পরিবারের অবাঞ্ছিত মেয়ে।

এখন কঙ্গনার জীবনে অনেকটাই বদল এসেছে। একসময় তার পরিবার তাঁকে অবাঞ্ছিত শিশু বলে অবজ্ঞা করতেন। এখন চার বার আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কার জিতে পুরো পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা।

কঙ্গনার বাবাও নিশ্চিত করেছিলেন যে, অভিনেত্রীর জন্মের পর তারা হতাশ হয়েছিলেন। কারণ তারা আশা করেছিলেন যেহেতু তারা একটি পুত্রকে হারিয়েছেন, তাই অপর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হবে। তবে, এখন তিনি তার কন্যা সম্পর্কে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং তিনিই হিমাচল প্রদেশ সরকারকে তার সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, যেই দাবি কেন্দ্রকে মেনে নিয়েছিলেন।




মন্তব্য করুন