বাংলাদেশের ৫০ বছরে পদার্পনের মুহূর্তে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনাকে স্মরণ করে প্রকাশ হলো কাজী নজরুল ইসলামের 'জয় হোক' গানটি।  অর্ণবের সংগীতায়োজনে এই ধ্রুপদী গানটি নতুনত্বের সঙ্গে সবার কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে গায়িকা সুস্মিতা আনিস এবং নির্মাতা পিপলু খান নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। 

স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে গানটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে একজন নারীর মুক্তির প্রতিচ্ছবি। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। গানটির দৃশ্যপট নজরুলের চেতনাকে ধারণ করে নির্মিত হয়েছে। যেখানে রয়েছে একজন নারীর পুনরুত্থানের গল্প, তার পুনর্জাগরণের উপাখ্যান। সে আবির্ভূত হয় বিভিন্ন দেবীর রূপে। একজন হেরে যাওয়া নারী, যে জীবনে অনেক ধরনের দুর্ভোগের ভাগীদার হয়েছেন, সে কিভাবে অবাধ্যতাকেই তার অস্ত্র বানিয়ে জীবিত হয়ে উঠে, সে গল্পই গানটিতে। যাকে বাঁধন বলছেন, এক হেরে যাওয়া মানবসভ্যতার গল্প এটি। 

গানটির মাধ্যমে মহসিনা আক্তারের কসটিউম ডিজাইনে বান্দরবানের নৈসর্গিক ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে অন্য এক বাঁধনকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। 

এতে অভিনয় অভিজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, গানটির শুটিংকালীন দারুণ সব অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুর্ঘম জায়াগ, সাতার না জানা আমি শুটিংয়ের জন্য সাঙ্গু নদীর বুকে নেমে পড়ি। সব কিছু করেছি কাজটির প্রেমে পড়ে।’

আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশে বাস করি। কিন্তু নিজেদের (নারী) স্বাধীনতা বা অধিকার নাই। নিজেদের শরীর-মন, কোথাও স্বাধীনতা নাই। আমাদের চলতে হয় অন্যের ইচ্ছা আর লোকে কী বলবে, এই অনুতাপ নিয়ে। আমাদের সমাজে নারীরা এখনও যেভাবে বঞ্চিত হচ্ছে, সেটাই পোট্রে করার চেষ্টা করেছি এই কাজটির মাধ্যমে।

সুস্মিতা  বলেন, ‌'এই মিউজিকাল ফিল্মটি তুলে ধরেছে নারীদের প্রতিদিনের সংগ্রামের চিত্র এবং তাঁদের রুখে দাঁড়ানোর উদ্দীপনাকে। নজরুল নিয়মভঙ্গের বুননকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই এই গানটিতেও উনার অবাধ্য চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। এই গানে আশা করা হয়েছে শান্তির, সাম্যের এবং সত্যের জয়ের। অত্যাচার, অসমতা, অশান্তি, জরা এবং মিথ্যার শেকল ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসার উৎসাহ যোগায় এই গান।' 


গানটি শিল্পীর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। 

মন্তব্য করুন