‘আমার আত্মবিশ্বাস, আমার সৌন্দর্য’ এই স্লোগান নিয়ে এবারের মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-২০২০ এর খেতাব জিতলেন তানজিয়া জামান মিথিলা। শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজনের গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ী মিথিলার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন ভারতের মডেল ও অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং।

কিন্তু অনেকেই বলছেন, এবারে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ যে মিথিলা হচ্ছেন তা জানা গেছে আয়োজনটির শুরু থেকেই। আসরের এক প্রতিযোগী  দাবি করেছেন মিথিলাকে যে এবারের 'মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ' করা হবে সেটা পূর্ব পরিকল্পিত।  

গত ফেব্রুয়ারিতে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০’ প্রতিযোগিতায় অনিয়মের অভিযোগ আনেন এ আয়োজনের প্রতিযোগি মডেল অভিনেত্রী শান্তা পাল। সে সময় ফেসবুক লাইভে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করে এর প্রতিবাদ করেন। শান্তা বলেন, 'মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ অডিশনে আমি প্রায় চার ঘণ্টা ছিলাম। আমার সঙ্গে আরও ছয়জন ছিলেন। মাঝে হঠাৎ দেখি আমাদের সিনিয়র এক মডেল ভেতরে ঢুকলেন। তার নাম মিথিলা। ভাবলাম হয়তো কোনো কাজে তিনি এসেছেন। এরপর বের হয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। তিনি যা বললেন তা শুনে আমি অবাক। তিনি নাকি প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছেন!'

অভিযোগকারী মডেল শান্তা পাল

এমন ঘটনার পর মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের একজনকে ফোন দেন শান্তা। এই প্রসঙ্গে শান্তা আরও বলেন, 'যখন ফোন দিলাম আমাকে বলা হলো মিথিলা আপু আগেই অডিশন দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমার সিরিয়াল ছিল ১৯২, আর মিথিলা আপুর ছিল ২০০ এর ওপরে। তাহলে তিনি কীভাবে আগে অডিশন দিলেন। সবই ছিলো সাজানো নাটক।'

শান্তা পালের এই বক্তব্য প্রকাশ করে কলকাতার গণমাধ্যম ‘এবিপি আনন্দ’। সেখানে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর শফিক ইসলামের বক্তব্যও রয়েছে। সেখানে শফিক ইসলাম বলেন, যারা বাদ পড়েছে, তারা নিজেদের প্রথম পঞ্চাশে দেখতে না পেয়ে হিংসায় এই ধরনের মিথ্যাচার করছে।

এদিকে মিথিলা ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০’ ঘোষিত হওয়ার পর শান্তা পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সত্য কখনও চাপা থাকে না। আজ না হয় কাল সেটা প্রকাশ পাবেই। দুইমাস আগেই বলেছিলাম মিথিলাকে এবার মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ’বানানো হবে। হলোও তাই।' 

তিনি আরও বলেন 'মিথিলা অডিশনের আগেই বিভিন্ন ফ্যাশন শো কিংবা ফটোশুটের সময় বলে বেরাচ্ছিলেন যে, এবারের মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তিনিই হবেন। তার এইসব কিথাবার্তায় অনেকটা বোঝা যায়। আর আমি যখন অডিশনে অংশগ্রহণ করতে যাই তখন মিথিলা ও জাজদের চক্রান্তে আমাকে বাদ দেওয়া হয়। কারণ আমি যেন মিথিলাকে টেক্কা দিতে না পারি। আসলে সবই ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত। বাকি সব সাজানো নাটক।'

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানাতে চাইলে মিথিলা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমি যদি অডিশন দিয়ে না আসতাম, তাহলে আয়োজক কমিটি প্রকাশিত ভিডিওতে আমার ভিডিও আসতো না। জাজরা আমাকে প্রশ্ন করছেন সেসব ভিডিও আসতো না।'

অভিযোগকারীর উদ্দেশে মিথিলা বলেন, ‘একজন মডেল হয়ে আরেকজন মডেলের বিরুদ্ধে এমন কথা বলা একদমই ঠিক নয়। আমাদের সবারই একজন আরেকজনকে আরও সম্মান করা উচিত। মিডিয়ার মধ্যেই যদি আমরা একে অপরকে সম্মান না করি, তাহলে আমরা কেউ সামনে এগোতে পারবো না।’ 

এদিকে আয়োজকদের পক্ষে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন ফারজানা ইয়াসমিন অনন্যা। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন ফারজানা আকতার অ্যানি। এর পাশাপাশি বিশেষ যোগ্যতা অনুযায়ী পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনীত হন পাঁচ প্রতিযোগী। তারা হলেন, মিস কনজেনিয়ালিটি ফারজানা ইয়াসমিন অনন্যা; মিস শাইনিং স্টার আপোনা চাকমা; মিস ফোটোজেনিক নিদ্রা দে, মিস বডি বিউটিফুল তানজিয়া জামান মিথিলা এবং মিস ট্যালেন্টেড হিসেবে নির্বাচিত হন তৌহিদা তাসনিম তিফা।

দেশ ও দেশের বাইরে (বাংলাদেশি) থেকে আসা প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা ১০ প্রতিযোগীর মধ্যে জোরালো প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শেষ হল মিস ইউনিভার্স ২০২০-এর বাংলাদেশ পর্ব। গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন প্রাসাদ বিদাপা (ভারত), মেহরুজ মুনির, আইরিন সমার তিলগার, গৌতম সাহা, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, রিয়াজ ইসলাম, সারা সুলেমান এবং তাহসান রহমান খান। বিশেষ বিচারক ছিলেন ভারতের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট রফিকুল ইসলাম ডিউক, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম।

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০ এর আয়োজনের প্রধান রফিকুল ইসলাম ডিউক বলেন, “আগামী ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডে মিস ইউনিভার্স ২০২০ প্রতিযোগীতার ৬৯তম মূল মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০’ মুকুট বিজয়ী।' তিনি বলেন, 'আমি তানজিয়া জামান মিথিলাকে নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন মিস ইউনিভার্স–এর মূল মঞ্চ।'

এবারের আয়োজনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেন ৯ হাজার ২৫৬ জনেরও বেশি। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর অডিশনের জন্য ডাক পান ৫০০ জন।