জয়া আহসান। নন্দিত অভিনেত্রী ও মডেল। সম্প্রতি কলকাতার 'বিজয়া' ও 'রবিবার' ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার [বাংলা] পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই অর্জন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

  • 'বিসর্জন' ও 'রবিবার' ছবির জন্য আবারও অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেলেন। এই প্রাপ্তি নিয়ে অপনার অনুভূতি জানতে চাই...

পুরস্কার পেয়ে ভালো লাগছে। এই ভালো লাগা শুধু অনুভব করা যায়, কথায় বোঝানো যায় না। শুধু নিজে নই, এই প্রাপ্তিতে আমার কাছের ও চলচ্চিত্রের সহকর্মী অনেকেই খুশি হয়েছেন। তাই কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই যাদের জন্য অভিনয় জগতে আমার পথচলা, শিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাওয়া এবং অভিনয়ের জন্য যাদের ভালোবাসা পেয়েছি তাদের সবাইকে।

  • 'রবিবার' ও 'বিসর্জন'-এ অভিনয় করতে গিয়ে কখনও কি মনে হয়েছে, এই ছবি দুটির জন্য কোনো স্বীকৃতি পেতে পারেন?

গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ পরিকল্পনা শুনেই আমি অভিনয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবার আগে আমার ভাবনা থাকে এটাই, যে কাজটি করতে যাচ্ছি, তা আমার শিল্পীসত্তাকে খুশি করবে কিনা। 'বিসর্জন' বা 'রবিবার' ছবি দুটিই শুধু নয়, এ সময়ের প্রতিটি ছবির বিষয়ে একই ভাবনা কাজ করেছে। কাজের জন্য কোনো স্বীকৃতি পাব কিনা তা নিয়ে আদৌ ভাবিনি। দেশের বাইরের কোনো ছবিতে অভিনয় করে বড় একটি প্রতিযোগিতায় নিজের নাম যুক্ত করতে পেরেছি- এটাই আমার জন্য অনেক সম্মানের। একসময় কোনো কিছু না জেনেই অভিনয় শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে অভিনয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। আর এখন অভিনয়ে আমার জীবন যাপন। তাই ভালো কাজের চেয়ে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে বড় করে দেখি না।

  • সদ্য মুক্তি পাওয়া আপনার 'অলাতচক্র' ছবি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী, তা জানার সুযোগ হয়েছে?

ছবিটি অনেকে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। ছবির প্রিমিয়ারে গিয়েও দর্শকের সঙ্গে ছবি দেখার আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ হয়েছে। করোনার এই সময়ে দর্শক হলে গিয়ে ছবি দেখছেন- এটা ছিল সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়। এখন নতুন করে লকডাউন শুরু হওয়ায় দর্শক ছবি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে যখনই ছবিটি দেখার সুযোগ হোক না কেন, দর্শকের কাছে 'অলাতচক্র' ভালো লাগবে বলেই আমার ধারণা।

  • 'অলাতচক্র' ছবির কোন দিকটি আপনার কাছে শক্তিশালী বলে মনে হয়েছে?

কাহিনি হলো এই ছবির প্রাণ। আমার প্রিয় কথাশিল্পী আহমদ ছফার লেখা উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। থ্রিডি ফরম্যাটে নির্মিত এটাই দেশের প্রথম ছবি। যেখানে শিল্পী ও কলাকুশলীরা সবাই তাদের সেরা কাজটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। একটি ভালো ছবি নির্মাণের জন্য যত রকম চেষ্টা থাকে, তার অনেক কিছুই করা হয়েছে এই ছবির জন্য।

  • এ সময়ে আর কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে। কলকাতায় সৌকর্য ঘোষালের 'ওডিসি' নামের একটি ছবির কাজ শুরু করেছি। তার আগে শেষ করেছি 'বিনিসুতোয়' ও 'ঝরা পালক' নামের দুটি ছবির কাজ। দেশে পিপলু আর খানের নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি ছবির কাজ শেষ করেছি। নুরুল আলম আতিকের 'পেয়ারার সুবাস' আর মাহমুদ দিদারের 'বিউটি সার্কাসে'র কাজও প্রায় শেষ।

মন্তব্য করুন