ফজলুর রহমান বাবু। নন্দিত অভিনেতা। এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক 'মেহমান'। আল হাজেন পরিচালিত এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

অসংখ্য ধারাবাহিকের ভিড়ে 'মেহমান' নাটকের গল্প ও চরিত্র কতটা আলাদা বলে মনে হয়েছে?


অনেকের অভিযোগ, বেশিরভাগ নাটকের গল্পে বৈচিত্র্য খুুঁজে পাওয়া যায় না, চরিত্রও প্রায় একই রকম- এই অভিযোগ একেবারে অসত্য, তা বলা যাবে না। নাটকে যখন চলমান সময় ও জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়, তখন তার সঙ্গে বাস্তবের অনেক মিল থেকে যায়। তাই আলাদা করে কিছু করতে গেলে নাট্যকার, নির্মাতা ও শিল্পীদের যে যার জায়গা থেকে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যেতে হবে। পরিচালক আল হাজেন চেষ্টা করেছেন তার চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী 'মেহমান' নাটকটি একটু আলাদা করে তুলে ধরার। এখন দর্শক বিচারক, তারা বলবেন আমরা এই কাজে কতটা ভিন্নতা তুলে ধরতে পেরেছি।

নাটকের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন। অনলাইনের এসব আয়োজনে দর্শকের আগ্রহ কেমন চোখে পড়ছে?


এখন তো দর্শক টিভির চেয়ে অনলাইনে নাটক, টেলিছবি বেশি দেখেন। তাই ওয়েব সিরিজগুলো দর্শক ধরে রাখতে পারছে। যদিও অনেক সমালোচনা শোনা যাচ্ছে কাজের মান নিয়ে, তারপরও ভালো কিন্তু থেমে নেই। অনলাইন আমাদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাই আমাদের উচিত, এখানে কাজের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি গড়ে নেওয়া।

এর মধ্যে কোনো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন?

ক'দিন আগে 'বদমাইশ পোলাপাইন' নামে একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি। এটি পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশিদ বান্না। কয়েকজন বন্ধু, তাদের বাবা ও তিনজন শিক্ষককে নিয়ে এর গল্প। এতে আমি বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। গল্পে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন বয়সীদের কীভাবে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দেখানো হয়েছে একজন বাবা সন্তানের জন্য জীবনের সব সামর্থ্য দিয়ে কীভাবে তার আবদার পূরণ করে, ভালো রাখার জন্য দিনমান নিবেদিত থাকে। এই গল্পে একটা বার্তা আছে, যা দর্শককে কিছুটা হলেও ভাবাবে।

'বঙ্গবন্ধু' ছবিতে অভিনয় অভিজ্ঞতার কথা বলুন...

এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে গেলে কিছু বিধিনিষেধ মানতেই হয়। কাজের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে সময় মেনে চলা, নিজের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে করা যায়- এমন অনেক কিছুই এই ছবি করতে গিয়ে জানা হয়েছে।

এই ছবিতে খন্দকার মোশতাকের চরিত্রে অভিনয় কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

ইতিহাসের পাতা থেকে যাদের পর্দায় তুলে আনা হয়, সেসব চরিত্রে অভিনয় অসম্ভব চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। তাই খন্দকার মোশতাকের চরিত্রে অভিনয় আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজের একটি। একদিক থেকে আমি ভাগ্যবান যে, খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগালের নির্দেশ মেনে চরিত্রটি পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি। তাই চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় কাজ করছে না।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত গান করছেন। কণ্ঠশিল্পী হওয়ার ইচ্ছা কি আগে থেকেই ছিল?

মঞ্চের কারণেই আজ আমি কণ্ঠশিল্পী। কারণ, মঞ্চের জন্যই গানের চর্চা চালিয়ে গেছি। সেই সুবাদে প্লেব্যাক করে পরিচিতি পাওয়া। পরে অ্যালবাম ও একক গান প্রকাশের পেছনেও মঞ্চের কাজের অভিজ্ঞতা সাহস জুগিয়েছে।

বিষয় : ফজলুর রহমান বাবু বিনোদন

মন্তব্য করুন