বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশ দাফনের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘৫৭০’। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক আশরাফ শিশিরের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিটির অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী। গত বছরের ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ছবিটির শুটিং। শেষও হয়েছে। এখন ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে সমকালকে জানালেন পরিচালক। 

সব ঠিক থাকলে শোক দিবস উপলক্ষে আগামী ১৫ আগস্ট ছবিটি মুক্তি দিতে চান পরিচালক ও প্রযোজক। 

পরিচালক সমকালকে বলেন, 'ছবিটি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী কয়েক ঘন্টা নিয়ে নির্মিত হয়েছে। আমরা চাই ছবিটি আগামী শোক দিবসে মুক্তি দিতে। এ লক্ষ্যেই ছবিটি দ্রুত কাজ করছি। পিরিয়ডিক্যাল সিনেমা হওয়ায় ছবিটিতে ভিএফএক্সের কাজ বেশি। তাই একটু সময় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কাজ শেষ হলেই আগামী শোক দিবসে মুক্তি দেওয়ার চিন্তা আমাদের।'

বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। রুপালি পর্দায় সেই দিনটার ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে ছবিটিতে। সিনেমাটিতে বাপ্পী চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ বহন করে নিয়ে যাওয়া একজন সেনাবাহিনীর সৈনিক চরিত্রে দেখা যাবে। মূলত তার উপস্থিতিতেই হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত মরদেহ ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় টুঙ্গিপাড়ায়।

ছবিটি নিয়ে বাপ্পি বলেন, অনেক বেদনাদায়ক একটি ঘটনা নিয়ে ছবিটি। ছবিটির গল্পে হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় অন্য সেনা সদস্যদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া নামার পর সেনা সদর দফতর থেকে ক্ষণে ক্ষণে প্রেশার আসছিলো, দ্রুত দাফন করার জন্য। টাইম বেঁধে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা। মানে বিষয়টি এমন, বঙ্গবন্ধুকে গোসল করানোর দরকার নেই, দ্রুত দাফন করে ফেলো! তবুও আমরা গোসল করানোর উদ্যোগ নিই। কারণ, রক্তাক্ত বঙ্গবন্ধুকে এভাবে দাফন করতে চাইনি আমরা। হুজুর ডাকা হলো। তিনি বললেন, সাবান ছাড়া তো গোসল সম্ভব নয়। ওদিকে ঢাকা থেকে প্রেশার আসছিলো- দ্রুত করার জন্য। এরপর আমি আমার বড় অফিসারকে অনুরোধ করে এক পিচ্চিকে দিয়ে সাবান কেনার ব্যবস্থা করি। ছেলেটা নিয়ে আসে তখনকার এক টুকরো কাপড় কাচা সাবান। সাবানটির নাম- ৫৭০। সেই সাবান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গোসল করানো হয়। ছবিটির নাম মূলত এখান থেকেই। তবে ছবিটির প্রেক্ষাপটের আরও গভীরতা রয়েছে।’

বাপ্পি আরও বলেন,‘ছবিটি করা আমার জন্য এটা অন্যরকম এক অনুভূতি। এমন একটি ছবির অংশ হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হয়েছে। ছবিটির জন্য শিশির ভাই আমাকে নিয়েছেন এ জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে কাজ করেছি।' 

করোনাকালে সিনেমাটি কি হলে মুক্তি দেওয়া হবে? পরিচালক আশরাফ শিশিরের কাছে এ প্রশ্ন রাখলে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু সিনেমা হলে মুক্তি দিতেই সিনেমা নির্মাণ করি। এমন একটি গল্পের ছবি হলেই মুক্তি দিতে চাই। মানুষ সত্য ঘটনাটি জানুক, পর্দায় ঘটনাটি জীবন্ত দেখুক। তবে হলের পাশাপাশি ওটিটিতে রিলিজ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। দেখা যাক কতটা কি করা যায়।'  

ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন মাসুম আজিজ, স্বাধীন খসরু, সুমনা সোমা, কাজী রাজু, এলিনা শাম্মীসহ প্রায় তিন শতাধিক শিল্পী।