অভিনেত্রী শাবানা। যার নামের পাশে আর বিশেষ কোনো বিশেষণের প্রয়োজন হয়না। শাবানা মানেই যেনো বর্ণিল ইতিহাসের পান্ডুলিপি। মাত্র আট বছর বয়সে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’  ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন। এরপর ‘চকোরী’ ছবিতে নায়িকা চরিত্রে। বাকিটা ইতিহাস। একের পর এক হিট ছবি।  আজ এ নায়িকার জন্মদিন। 

১৯৫২ সালের ১৫ জুন আজকের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী যিনি একজন টাইপিস্ট ছিলেন এবং মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। সাধারণ এক পরিবারের জন্ম নিয়ে নিজ মেধাগুণে ঢাকাই ছবির কিংবদন্তি অভিনেত্রী হয়ে উঠেন তিনি।

তবে গত ২০ বছর হল চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন শাবানা। স্বামী সন্তান নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ঢাকাই ছবির এই মিষ্টি নায়িকা। মাঝে-মধ্যে দেশে আসেন তিনি। তবে চলচ্চিত্র থেকে শাবানা বিদায় নিলেও তার জায়গা আজও কেউ নিতে পারেননি। এখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ভালো ভালো প্রযুক্তির ব্যবহার হয়, কিন্তু সেই সাদা কালো যুগের শাবানাকে কেউ পেছনে ফেলতে পারেননি। পারবেওনা হয়তো।   

আমেরিকায় থাকলেও সুযোগ পেলেই চলে আসেন দেশে। গত বছর ঢাকায় এসেছিলেন শাবানা। সে সময় নিজ বাসায়  গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে প্রাণখুলে আড্ডা দেন এ অভিনেত্রী। যে আড্ডায় জানালেন অনেক না বলা কথা। রোমন্থন করলেন অতীত স্মৃতি। আড্ডায় হাজির ছিলেন সমকাল প্রতিনিধিও। 

সে সময় প্রবাস জীবন কিভাবে কাটছে কিংবদন্তি এ তারকার?  এ প্রশ্নের উত্তরে শাবানা বলেন, আমি তো এখন পুরোপুরি পারিবারিক মানুষ। পরিবার নিয়েই সময় কাটে। নাতি-নাতনিতের নিয়ে খেলাধুলা করে ওদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই সময় পার করি। ওরাই এখন আমার একমাত্র খেলার সঙ্গী। এছাড়াও ধর্ম কর্ম পালন করছি। রোজা নামাজ করতে করতে দিন কেটে যায়। মাঝে মাঝে দেশে আসছি। আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা হচ্ছে। সিনেমার পুরোনো মানুষজনদের সাথেও দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গেও সময়টা ভালো কাটে।'

প্রতিটি মানুষের জীবনেরই অতীত থাকে। সেই অতীতটা ভালোমন্দ মিলেই। সাধারণত মানুষ তার জীবনে অতীতের সুন্দর সময়টাকেই মিস করে বেশি। শাবানা অতীত জীবনের কোন বিষয়টি মিস করেন এমন প্রশ্নের জবাবে শাবানা বলেন, একদিন কত সুন্দর সময় গেছে আমাদের। কত ব্যস্ততা মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরেছি। মাসের ত্রিশ দিনই ক্যামেরার সামনে শুটিং করেছি। শুটিং শেষে পরের দিনের শুটিংয়ের আবার প্রস্তুতি। সেসব দিনগুলোতে খুবই মিস করি। সেই সঙ্গে দেশের মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা। এখন যখন দেশে আসি রাস্তায় কোনো মানুষ যদি আমাকে দেখে তাদের চোখে মুখে যে আনন্দ ও তৃপ্তির ছাপ ফুটে উঠে সেটা ভাষায় বলে বোঝাতে পারবো না।

সিনেমার সোনালী দিন নেই আর। ১২শ' থেকে হল কমে এসে দাড়িয়েছে অর্ধশতকে। বিষয়টি জানাতেই অবাক ১১ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এ নায়িকা।  সর্বশেষ ২০১৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।