রুবেল জন্ম নেওয়ার পর মা রাহিমা খাতুনের জীবনে সুখের দেখা মেলে। রুবেলও ছিলেন মা অন্তঃপ্রাণ। রিকশা চালিয়ে মায়ের জন্য কেক নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথেই টার্গেটে পরিণত হন তিনি। নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে একটি ডোবায় ফেলে রাখ হয় লাশ। নিয়ে যাওয়া হয় তার রিকশাটি। নিখোঁজের পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ রুবেলের লাশ উদ্ধার করে।

রুবেল মিয়া (৩০) ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ পাড়ালক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মন্নাছ আলীর ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। আগে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এক বছর আগে বাড়ি চলে আসেন। একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এক লাখ ৭ হাজার টাকায় একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেই রিকশা চালিয়ে চলত রুবেলের সংসার। মা ছাড়াও স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী ফাতেমা নামে একটি মেয়ে আছে তার।

প্রতিদিনের মতো গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বের হন রুবেল। তবে রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাননি। গতকাল সকাল ১১টার দিকে শম্ভুগঞ্জ ঝাউগড়া এলাকায় একটি ডোবার মধ্যে লাশ পড়ে আছে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে শনাক্ত করেন। শুরু হয় স্বজনের আহাজারি।

খবর পেয়ে পুলিশও যায় ঘটনাস্থলে। যে স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়, সেই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় এক প্যাকেট কেক। পরে ডোবা থেকে লাশ তুলে আনার পর সুরতহাল করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সুরতহালে নিহতের মাথায়, মুখের বাঁ দিকে, কপালসহ বিভিন্ন স্থানে থেঁতলানো ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘাতকের বেল্ট দিয়ে পা বাঁধারও চেষ্টা করা হয়েছিল। লাশের পায়ে বেল্ট পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে।

নিহতের মা রাহিমা খাতুন বলেন, বাড়িতে আসার সময় রুবেল প্রতিদিন নানা জিনিস নিয়ে যেত তার জন্য। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। অটোটা নিয়ে যেত, আমার ছেলেকে কেন মারল ওরা? হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন নিহতের ভাই আবুল কালাম আজাদও।মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তারাকান্দা উপজেলার মধুপুর বটতলা এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দু'জন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ইট দিয়ে থেঁতলে ও ধারালো চাকু দিয়ে জখম করা হয় রুবেলকে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রায়হানুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা ছিল তা তদন্তে বলা যাবে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার করা যায়নি।