ঈদের দিন থেকে বন্ধ এফডিসির মূল ফটক। বাইরে তালা না ঝুললেও বন্ধ ভেতর থেকে। গেটের ফাঁক দিয়ে দেখা গেলো ওপাশে বসে আছেন পাঁচ-ছয় জনের সদস্য। গেট পাহারায় নিয়োজিত তারা। তাদের তিন-চার হাত দূরে বসে আছেন কয়েকন পুলিশ সদস্যও। সবাই গেটের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত। এফডিসির ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না কাওকে। এমনকি চলচ্চিত্রকর্মীদেরও। প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশমূখে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। 

প্রায় ৩০ মিনিট গেটের দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলার পরও ভিতরে প্রবেশের অনুমূতি দেয়নি গণমাধ্যম কর্মীদের। তবে হালছাড়ার পাত্র নয় গণমাধ্যমকর্মীরা। নানা ছলাকলা দিয়ে অবশেষে প্রবেশ করতে সমর্থ হন তারা। হুট করে এফডিসিতে এমন নিরাপত্তা কেনো বলতে পারেননি উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষী বা দাারোয়ানদের কেউ। ভেতরে প্রবেশের পর  দেখা গেলো অচেনা এক এফডিসি। 

যে এফডিসিতে করোনাকালে গত ঈদুল আজহাতেও ছিলো উৎসবের আমেজ। সেবার কোরবানি হয়েছিলো নয়টার মতো গরু। চিত্রনায়িকা পরীমণি ও শিল্পী সমিতির উদ্যোগে দেওয়া হয় সেই কোরবানি। সেই কোরবানির মাংস নিতে এফডিসিতে হাজির হয়েছিলেন  সিনেমার শত শত এক্সট্রা শিল্পীরা। এফডিসিকেই যারা ঘরবাড়ি ভেবে থাকেন। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। এক্সট্রা শিল্পীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এফডিসির গেটের বাইরে। ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলেনি তাদের। অথচ তাদের উদ্দেশ্যে এবারও কোরবানি হয়েছে। একটি বা দুটি নয়, দশটির মতো গরু। এর মধ্যে পরীমণি একাই দিয়েছেন ছয়টি গরু। আর শিল্পী সমিতি, পরিচালক ও প্রদর্শক সমিতি মিলে ছয়টি গরু। সবই হয়েছে এফডিসির বাইরে। পরীমণির কোরবানির  এফডিসির পাশে হলেও বাকিগুলো হয়েছে কাকরাইলে। অনেক শিল্পী তাই ঈদে নতুন জামা গায়ে এফডিসিতে মাংস নিতে এসে ফিরে  গিয়েছেন। হয়তো পরে খোঁজ খবর নিয়ে চলে গিয়েছেন যেখানে কোরবানি হয়েছে সেখানে।

ঈদের দিন এফডিসির ভেতরে পরিচালক সমিতির সামনের একটি চিত্র। 

ঈদের দিন এফডিসির ভেতরে প্রবেশের দশ মিনিট পরই দৌড়ে আসেন গেটে থাকা দারোয়ান। অনুনয় বিনয় নিয়ে বললেন, 'ভাই দ্রুত বের হয়ে যান। না হলে আমাদের চাকরি চলে যাবে। আমাদের চাকরিটা খাইয়েন না ভাই।'

হুট করে এমন নিরাপত্তা জোরদার করার কারণ কি? প্রশ্ন করলে কিছু বলতে পারেননি তারা। শুধু বললেন, কর্তৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞেস করেন।

ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও একই চিত্র দেখা গেলো এফডিসির সামনে। শুক্রবার  এফডিসির গেটের ওপাশে থাকা সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করা হয় এফডিসির এ অবস্থা কতদিন থাকবে? তিনি জানালেন, লকডাউন যতদিন থাকে। ততদিন বন্ধ থাকবে এফডিসি। কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঈদের দিন সন্ধ্যায় এফডিসির গেটের সামনের চিত্র

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিএফডিসির ফ্লোর ও সেট প্রধান এবং অতিরিক্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এফডিসিতে এবার কোরবানি দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনায় মানুষের জমায়েত ঠেকাতে ও এফডিসির পরিবেশ ঠিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত। আর ঈদের তিনদিন তো সরকারি ছুটি। এই ছুটিতে এফডিসিও বন্ধ। তাই এফডিসির নিরাপত্তার স্বার্থে ভিতরে প্রবেশ কড়াকড়ি করা হয়েছে।'

মি. হিমাদ্রি আরও জানান, সারা দেশে কঠোর লকডউন চলছে। এই লকডউনে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এফডিসিও বন্ধ রয়েছে। সকল অফিসিয়াল কর্মও বন্ধ। এ সময় চলচ্চিত্রের সকল শুটিং বন্ধ। লকডাউন খুলে গেলেই আবার এফডিসি স্বাভাবিক হবে।