ক্যারিবীয় সাগরের হিস্পানিওলা দ্বীপের পশ্চিম এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ে গঠিত হাইতি। ১৮০৪ সালে হাইতি লাতিন আমেরিকার প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটিই দাসদের সফল বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট একমাত্র রাষ্ট্র। হাইতি প্রথমে স্পেনীয় ও পরে ফরাসি উপনিবেশ ছিল।এই হাইতিতে হয়েছে বাংলাদেশের 'নীল মুকুট' নামে একটি ছবির শুটিং। 

ছবিটি নির্মাণ করেছেন কামার আহমাদ সাইমন। এর আগে এই নির্মাতা ‘শুনতে কি পাও!’ নামের আরেকটি ছবি নির্মাণ করেন। শুক্রবার এক মেইল বার্তার মাধ্যমে দেশের বাইরে হাইতিতে ছবিটির শুটিং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। 

পরিচালক জানান, 'নীল মুকুট' ছবির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ মিনিট। যার মধ্যে ৬৫ মিনিটই শুটিং হয়েছে অর্ধেক পৃথিবী দূরের দেশ হাইতিতে। আর সেই শুটিং করতে গিয়ে একেবারে শেষ মূহুর্তে ক্রুদের কেউ ভিসা না পাওয়ায় তৈরি হয়েছিল এক জটিল পরিস্থিতি।

কামার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে হাইতি যেতে হলে আপনাকে নিউ ইয়র্ক হয়ে যেতে হবে, সেইক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকাটা জরুরি। আমার আর সারার সেই ভিসা থাকলেও বাকি ক্রুদের কারো মার্কিন ভিসা ছিলো না। এর মধ্যে আবার যাদের নিয়ে শুটিং তারা সব অনেক আগেই পৌঁছে গেছে হাইতি। আমি যদিও খুব ছোট ইউনিটে কাজ করে অভ্যস্ত, তবু একদম কোন ক্রু ছাড়া হাইতির মতো এতদূর দেশে গিয়ে শুটিং করার সাহস করাটাই একটা বিরাট যুদ্ধ ছিল।

আর সেই যুদ্ধে কামারের সাথে ছিলেন প্রযোজক সারা আফরীন। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে সারা বললেন, প্রায় দুই-বছরের অনুমতি জটিলতা কাটিয়ে যখন হাইটিতে শুটিংয়ের সব ঠিক হলো, শেষ মূহুর্তে হলো এই ভিসা জটিলতা। এর আগে কখনো আমাকে ইকুইপমেন্ট নিয়ে সরাসরি প্রোডাকশনে কাজ করতে হয় নাই। কিন্তু হাইতিতে যেহেতু আর কোন উপায় ছিলো না, হয় আমাদেরকেই শুটিং করতে হবে নয়তো শুটিং বাতিল করতে হবে- এইরকম একটা পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিলাম যা করার আমরাই করবো।

এরপর প্রায় মাসখানেক লাইভ সাউন্ড রেকর্ডিং শিখলেন সারা, আর কামারতো সেই ‘শুনতে কি পাও!’ থেকে নিজেই ক্যামেরা চালান- মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহকের একটা আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও আছে তার ঝুলিতে। তারপর প্রস্তুতি নিয়ে কয়েকটা পেলিক্যান স্যুটকেস ভর্তি শুটিং গিয়ার নিয়ে দুইজন রওনা দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তারপর সেইখান থেকে আবার হাইতি।

এর বেশি ‘নীল মুকুট’ নিয়ে জানাতে চাননি পরিচালক।  তার মতে, আমি আসলে ছবি বানাই একটা ঘোরের মধ্যে, আমি চাই আমার দর্শকেরাও আমার সেই ঘোরের সাথী হোক- আমার মতোই তারাও আবিষ্কার করুক আমার ছবির চরিত্র আর তাদের জীবনের একটা অধ্যায়।

এর আগেই কামার জানিয়েছিলেন, প্লেনে একটা কান্নাকে অনুসরণ করতে গিয়েই একরকম অপরিকল্পিত সন্তান ‘নীল মুকুট’-এর জন্ম হয়েছে। কোন উৎসবে পাঠানোর আগে দেশে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছর ২৭ মার্চ ছবিটির মুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এরপর কয়েকবার চেষ্টা করেও ছবিটি মুক্তি দিতে না পারায় শেষে দেশের একটি ওটিটি প্লাটফর্ম এগিয়ে এসে ছবিটি তাদের প্লাটফর্মে মুক্তির ঘোষণা দেয়। আগামী মাসেই ছবিটি মুক্তির কথা রয়েছে।