দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। প্রতি উৎসবে তার নির্মিত একাধিক নাটক প্রচার হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এবার ঈদে দর্শকদের বিনোদন দিতে ডজন খানেক নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি। তার মধ্যে কিছু প্রচার হয়েছে, কিছু হচ্ছে। প্রচার হওয়া নাটকগুলো ইতোমধ্যে হয়েছে দর্শকাদের কাছে প্রশংসিত। বাকিগুলো প্রচারের আগেই  রয়েছে আলোচনায়। তার নির্মিত ঈদের নাটক ও ক্যারিয়ারের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন

এবারের ঈদে আপনার নির্মিত কয়টি নাটক প্রচার হলো?

এবারের ঈদের জন্য ১০টি নাটক নির্মাণ করেছি। তার মধ্যে চার থেকে পাঁচটি টিভিতে অনএয়ারের পর ইউটিউবে এসেছে। বাকিগুলো দু'একদিনের মধ্যে আসবে বলে আশা করছি। 

দর্শক সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

টিভিতে নাটকগুলো দেখে অনেকেই ফোন দিয়েছেন। ফেসবুকেও দর্শকরা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেক নাটক টিভিতে অনএয়ারের পর এখনো ইউটিউবে আসেনি। এলে আমার বিশ্বাস সেগুলো দর্শকদের খুবই পছন্দ হবে। কিছু নাটক টিভিতে প্রচারের পর এখন ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে ‘কালাই’, ‘সুইপার ম্যান'সহ বেশ কয়েকটি নাটক। এই নাটকগুলোতেও অফুরন্ত প্রশংসা পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, বাকি নাটকগুলো অনলাইনে এলে সেগুলো দর্শকদের কাছে আরও বেশি প্রশংসা পাবে।  

এবারে ঈদের নাটক নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী আপনি। নাটকগুলো ভালো লাগবে- জোর দিয়ে কিভাবে বলছেন?

হ্যাঁ, এবারের ঈদে আমার নাটক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী আমি। কাজগুলো করতে পেরে নিজেও বেশ সন্তুষ্ট। গত কয়েক উৎসবে যারা আমার কাজ দেখেছেন তারা অনেকেই অভিযোগ করেছেন গল্প বলার প্রতি আমার মনোযোগ কম ছিলো। তাদের অভিযোগ মাথা পেথে নেবো। গত কয়েকটি উৎসবে নাটক নির্মাণের উদ্দেশ্য আমার ছিলো না। যে নাটকগুলো করেছি তা কেবল করার জন্য করা। যে গল্পগুলো বলতে চাই তা বলিনি কিংবা বলতে পারিনি। কিন্তু এবারের ঈদের কাজগুলোতে আমি যা বলতে চাই তাই বলেছি  এবং বলতে পেরেছি। করোনার সময়ে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি। নিজের সর্বোচ্চা চেষ্টা দিয়ে কাজ করেছি। এবারের ঈদের নাটকগুলোতে দর্শকরা আসল বান্নাহকে চিনবেন।

পারিবারিক গল্পের নাটককে প্রাধাণ্য দিচ্ছেন আপনি। অথচ এখন এ ধরনের গল্পের নাটকে অনলাইনে ভিউ কম। সব জেনেও পারিবারিক গল্পে ফেরার কারণ কী?

শুধু হিট নাটক নির্মাণ করার জন্য তো নির্মাতা হইনি আমি। নাটকে শুধু ভিউ কাউন্ট করা আমার মোটিভ না। অতীত ঘাটলে দেখতে পাবেন দেশের অত্যধিক জনপ্রিয় ও কালজয়ী নাটকগুলো কিন্তু পরিবারিক গল্প নিয়েই নির্মিত। এ ধরনের গল্পের আবেদন যুগযুগ  থাকে। একশ' বছর পরও পারিবারিক গল্পের নাটক দর্শকরা দেখেন। মাঝে পারিবারিক গল্প নিয়ে নাটক নির্মাণ কমে যায়। এখন আবার শুরু হয়েছে। আমি আমার দিক থেকে চেষ্টা করছি এ ধরনের গল্পে কাজ করার।আমার বিশ্বাস আগামীতে পারিবারিক গল্পগুলোই দাপুটে বিচরণ করবে।  

বলছিলেন, মাঝে নাটক নির্মাণে মনোযোগ ছিলো না। মনোযোগ কোথায় ছিলো তাহলে?

মাঝে মনোযোগ ছিলো সিনেমায়। করোনার এই পরিস্থিতি না হলে আমার সিনেমা এতোদিনে হয়তো হলে মুক্তি পেয়ে যেতো। ওই সময়ে সিনেমার মধ্যেই ঢুকে গিয়েছিলাম। সিনেমা নিয়ে সব প্রস্তুতি নিয়েও নির্মাণে নামতে পারিনি শুধু করোনার কারণে। সে সময় শুধু করার জন্য মাঝে মাঝে কয়েকটি নাটক বানিয়েছি। বুঝুন সিনেমার ভেতরে থেকে কতটা কষ্ট নিয়ে নাটক বানাতে হয়েছে। 

'মায়ের ডাক' নামে একটি নাটকে শীর্ষে থাকা একঝাঁক তারকা নিয়ে শুটিং করেছেন। একসঙ্গে এতো তারকা নিয়ে কাজ করতে ঝামেলা পোহাতে হয়না?

কিছুক্ষণ আগে নাটকটি অনলাইনে রিলিজ হয়েছে। যেখানে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী দিলারা জামান, তাহসান খান, মম, তৌসিফ, জোভান, ফারিণ, কেয়া পায়েল ও শাহেদ আলী। কিন্তু নাটকিটর মূখ্য চরিত্র হচ্ছেন আমাদের দিলারা জামান। তাকে ঘিরেই গল্পটি আবর্তিত। এই নাটক নির্মাণ করতে গিয়ে কোনো বেগ পেতে হয়নি আমার। সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দূর্দান্ত সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে দিলারা জামান মা, তাহসান ভাই এবং তৌসিফ দারুণ হেল্প করেছে। আর মম, জোভান, ফারিণ, কেয়া পায়েল ও শাহেদ আলীও কম করেননি। এই নাটক ভিউ হবে না এটা মাথায় নিয়েই আমি করেছি। আর্টিস্টদের এটা বলেই কাজ করিয়েছি। তারাও সন্তুষ্টচিত্তে অভিনয় করেছেন। এ ধরনের কাজ যুগ যুগ ধরে বান্নাকে বাঁচিয়ে রাখবে বলে আমি মনে করি। 

 ইন্ডাষ্ট্রিতে ভালো কাজ করলে ইন্ডাষ্ট্রির মানুষই নাকি  তার পেছনে লাগে। আপনার বেলায় কি এমনটি ঘটে?

কাজ ভালো করলে তার পজেটিভ দিকের পাশাপাশি নেগেটিভ দিকও থাকবে। একজন ভালো মানুষর যেমন বন্ধু আছে তেমন শক্রও থাকে। এমন অভিজ্ঞতা কিন্তু প্রতিটি মানুষের বেলায় ঘটে। কেউ ভালো কিছু করলে তার পেছনে লেগে কিন্তু খুব একটা ক্ষতি করা যায় না। মেধা থাকলে তার কাজের মাধ্যমে সেটা প্রতিফলিত হবেই। পেছনে কে কি বললে সেটা নিয়ে পেছনে সময় দেওয়টাই বোকামি। তবে যারা ভালো কিছু হলে পেছনে লাগেন বা নেতিবাচক মন্তব্য করে বেড়ান তাদের সামাজিকীকরণে সমস্যা আছে। খোঁজ নিয়ে দেখবেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব বেশি না, তাদের বেড়ে উঠা বা বন্ধু-বান্ধব নিম্ম ক্লাসের মেন্টালিটির লোকজন।

আপনি নতুনদের নিয়ে কাজ করছেন। এখনকার নতুনদের মধ্যে কাকে আপনার সম্ভাবনাময মনে হয়?

আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নতুনদের নিয়ে কাজ করছি। যাদের প্রথম সুযোগ দিয়েছি তাদের অনেকেই এখন ইন্ডাষ্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত। এখনো করছি। এই সময়ে আমার সম্ভাবনাময় মনে হয়  মুশফিক আর ফারহানকে। অভিনয়ে ওর পরিশ্রম দেখে আমি নিজেও অবাক।  এই ঈদে ওকে নিয়ে নির্মাণ করেছি 'সুইপারম্যান' ও কালাই নামের নাটক। সুইপারম্যানে সে সুইপার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের জন্য সে ময়লার  ড্রেনে নেমে শুটিং করেছে।এমন উদহারণ  আরও অনেক আছে ওর বেলায়। পরিবেশ -পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে চললে ফারহান অনেক দূর এগিয়ে যাবে।  

বলছিলেন, করোনার কারণে  আপনার  সিনেমা নির্মাণ আটকে আছে। সে জট খুলবে কবে?

 সেটা কবে চালু করবো সেটাও বুঝতে পারছিনা। আমি আসলে ছয় বা আট ইঞ্চির স্ক্রিণে নিজের প্রথম সিনেমা দর্শকদের দেখাতে চাই না। ভালো খারাপ যাই বানাবো সেটা দর্শকরা সিনেমা হলে টাকা খরচ করে দেখে মন্তব্য করুক-এটাই আমার চাওয়া।  আমি সিনেমা বানাতেই এসেছি। সিনেমা না বাাতে পেরেই তো ফিকশন বানাতে হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সিনেমা নির্মাণে নামবো।

সবার উদ্দেশ্যে কিছু বলার  থাকলে...

আসলে সবার প্রথমে আমি আমার প্রডিউসারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো। তারা আমাকে কাজগুলো করতে সুযোগ দিয়েছেন। ধন্যবাদ দেবো চ্যানেলগুলোকে। তারা এই কাজগুলো প্রচার করে ভালো কাজকে উৎসাহিত করেছেন। আর টিমের সবার কাছে কৃতজ্ঞ আমি অবশ্যই। বিশেষ করে আমি যাদের সঙ্গে কাজ করছি, দিলারা আম্মু, তাহসান ভাই, তৌসিফ, মিশু সাব্বির, মম, জোভান, ফারহান, পারসা ইভানা, তাসনিয়া ফারিণ, কেয়া পায়েলসহ সবার সহযোগিতায় ভালো কাজ করা সম্ভব হয়েছে।