পরীমণি ইস্যুতে পরিচালক চয়নিকা চৌধুরীকে আটক করেছে ডিবি। শুক্রবার বেসরকারি একটি টিভিতে সাক্ষাৎকার শেষ করে বের হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ চয়নিকার ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।  

বর্তমানে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে পরীমণির কথিত মা হিসেবে অনেকে পরিচিত করে তুললেও বাংলা নাটকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়া একজন নির্মাতা তিনি। ১৯৯৮ সালে বোধ নামের নাটকের স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন চয়নিকা চৌধুরী। এরপর ২০০১ সালে  ‘শেষ বেলায়’ নাটকের মধ্য দিয়ে নির্মাতার খাতায় নাম লেখান।  গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি তার ক্যারিয়ারে ২০  বছর হয়। 

এই ২০ বছরের ক্যারিয়ারে চয়নিকার নির্মিত এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০টির মতো নাটক বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। 

বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনিই প্রথম সবচেয়ে বেশি নাটক ও ধারাবাহিক নির্মাণ করেছেন, যা এখন পর্যন্ত তার দখলে। তবে নারী হয়েই এতবছর ক্যারিয়ারে বাধা-বিপত্তি ঘটার বিষয়ে অকপটে স্বীকার করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে এর আগে সমকালকে চয়নিকা বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে গান ও নৃত্য করতাম। গানের গলা ভালো না হওয়ায় গান ছেড়ে দেই। তখন স্ক্রিপ্ট লিখতাম অনেক। সেই স্ক্রিপ্টের টাকা নিতে গিয়ে আমাকে শেষ বেলায় নাটকটার কাজ হাতে ধরিয়ে দেয়। এরপর নাটক নির্মাণে পুরোপুরি নেমে যাই। পরিবার থেকেও বিভিন্নভাবে সাপোর্ট পাই। আমার পরিবার আমাকে উৎসাহ দিত সবসময়। 

পারিবারের সহযোগিতা আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন চয়নিকা চৌধুরী। মাহফুজ আহমেদ, তমালিকা কর্মকারসহ অনেকে শুরুর দিকে সহযোগিতা করায় নির্মাতা হিসেবে ১৯ বছর পার করেছেন বলে জানান তিনি।

ম্যাজিকের মতো নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন চয়নিকা। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি। পরিমণী ও চিত্রনায়ক সিয়ামকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘বিশ্বসুন্দীর’ নামে একটি সিনেমা।

২০০১ সালে 'শেষ বেলায়' নাটকের মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন চয়নিকা।

ব্যক্তিগত জীবনে চয়নিকা চৌধুরী বিবাহিত। তার স্বামী অরুণ চৌধুরী লেখক ও সাংবাদিক। এই দম্পতির এক মেয়ে, অনুলেখা। চয়নিকা চৌধুরীর বোন তমালিকা কর্মকার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

নির্মাতা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে চয়নিকা চৌধুরী বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ২০০৩ সালে কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৪ সালে কালচারাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সেরা সমালোচক পুরস্কার। এ ছাড়া ২০১০ সালে চাড়ুনীড়ম ইনস্টিটিউট অব অ্যাক্টিং অ্যান্ড রিসার্চ থেকে বিশেষ পুরস্কার পান তিনি।