আশনা হাবিব ভাবনা। তারকা অভিনেত্রী। বাংলাভিশনে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক 'হিট'। এ নাটক, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

শুটিংয়ে ফিরছেন শুনলাম; নতুন কোনো নাটকে কাজ করছেন?

নতুন কোনো নাটকের কাজ হাতে নিইনি। লকডাউনের জন্য ধারাবাহিক নাটক 'হিট'-এর কাজ আটকে ছিল। এ নাটকের বাকি কাজ শেষ করার জন্যই শুটিংয়ে ফিরছি। আগামী ৪ তারিখ থেকে একনাগাড়ে কাজ করব।

শোনা যায়, কাজের বিষয়ে আপনি খুঁতখুঁতে স্বভাবের। বাছ-বিচার করেই কি 'হিট' নাটকের ঝুমকা চরিত্রে অভিনয়?

যেসব গল্প ও চরিত্রে বাস্তব জীবনের ছায়া আছে, সেগুলোই আমার বেশি পছন্দ। এ নাটকে চা বিক্রেতা ঝুমকার চরিত্র চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিনয় করেছি। পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের কাছে নাটকের গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে জানার পর দ্বিতীয়বার ভাবিনি।

অনেক দিন শুটিং ছিল না। সময় কেটেছে কীভাবে?

একের পর এক ছবি এঁকেছি। যখনই সময় পাই, লেখালেখি করি, নয়তো ছবি আঁকার চেষ্টা করি। এটা করতেই গিয়েই এ দুটি বিষয় নেশায় পরিণত হয়েছে। যে জন্য ছবি আঁকা আর লেখালেখি নিয়মিত চলছে।

বিটিভির 'এখানে কেউ থাকে না' নাটকের অর্পিতাও ছবি আঁকে। আপনার এ চরিত্রের সঙ্গে কি বাস্তব জীবনের মিল খুঁজে পান?

অর্পিতা চরিত্রের সঙ্গে একটাই মিল- দু'জনই ছবি আঁকতে ভালোবাসি। 'অর্পিতা' পড়াশোনায় অমনোযোগী, চুপচাপ স্বভাবের। নিজের আঁকা ছবির মাধ্যমে সে তার ভবিষ্যৎ রচনা করতে চায়। কিন্তু বাস্তবের এই আমি ছবি আঁকি ভালো লাগা থেকে। আমার ধ্যান-জ্ঞান আসলে অভিনয়। অভিনয় দিয়েই দর্শক হৃদয় জয় করতে চাই। নাটকের গল্পের সঙ্গে বাস্তবের অমিল এখানেই।

অভিনয় নিয়ে এত বাছ-বিচার কেনো?

আমি আসলে ভালো কাজ করতে চাই। যদি তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়, থাকব। একই চরিত্র যেমন ডাক্তার, নার্স, চা বিক্রেতা, গার্মেন্ট কর্মী- যেটাই হোক, অভিনয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু অভিনীত চরিত্রের মানুষটি যেন ভিন্ন ধরনের হয়। তার চিন্তা-চেতনা, জীবন সংগ্রাম থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয় আলাদা হতে হবে। আমার আগের কোনো নাটক, টেলিছবি বা সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে যাকে মেলানো যাবে না, তেমন সব চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। সে জন্যই কাজের বিষয়ে এত বাছ-বিচার।

'লাল মোরগের ঝুঁটি'র পর আর কোনো ছবিতে অভিনয় করছেন?

প্রস্তাব এসেছে বেশ কিছু ছবির। কিন্তু যে ধরনের গল্প ও চরিত্রের প্রতীক্ষায় থাকি, তেমন কাজের প্রস্তাব পাইনি। যখন পাব, তখনই অভিনয় নিয়ে ভাবব। জনপ্রিয়তার জোয়ারে গা ভাসানোর ইচ্ছা নেই। খ্যাতির মোহে যে কোনো কাজ করতে চাই না। অভিনয় করে যদি তৃপ্তি না পাই, তাহলে অভিনয় জীবন বেছে নেওয়া কেন- এ প্রশ্ন মনকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলেই সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে প্রাধান্য দিই।