ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ব্লেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত সেই শিশু তানিয়াকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার রাতে তানিয়ার বাবা তাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে নির্যাতনকারী আসমা আক্তারকে প্রধান আসামি করে মোট তিন জনের নামে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন আসমার বোন নিটু এবং সোহাগ।

ময়মনসিংহ কোতয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি আসমা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তিনি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন এবং অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ সমকালকে জানান, শুক্রবার রাতে শিশু তানিয়াকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আসমাসহ তিন জনের নামে মামলা হয়। কিন্তু আসামি আসমা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায়  এবং তার ডেলিভারির সময় রোববার হওয়ায় তাকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তিনি পুলিশের নজরদারিতে আছেন এবং মামলার বাকি আসামিদের ধরার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের পানের ভিটা গ্রামের হতদরিদ্র চা বিক্রেতা তাজিম উদ্দিন তার ৮ বছরের ছোট্ট মেয়ে তানিয়াকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকার এক ভাড়াটিয়া বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজে দেন। প্রায় পাঁচ মাস বিনা পারিশ্রমিকে গৃহ পরিচারিকার কাজ করিয়ে টাকা না দিয়ে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে গৃহকর্তা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আসমার বিরুদ্ধে। অমানুষিক নির্যাতনে তানিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে তার বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত দম্পতি। পরে স্থানীয়রা তানিয়াকে উদ্ধার করে তার বাবা-মাকে খবর দেয় এবং ট্রিপল নাইনে ফোন করে। পরে পুলিশ এসে অসুস্থ অবস্থায় তানিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তানিয়া ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সমকালের অনলাইনে 'সারা শরীরে ব্লেডের পোঁচে ক্ষতবিক্ষত ছোট্ট তানিয়া' শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশের পর তা অনলাইনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।