নেত্রকোনা জেলায় ২০টি সিনেমা হলের মধ্যে ১৯টি বন্ধ হয়ে গেছে আগেই। চালু ছিলো কেবল একটি সিনেমা হল। সেটি 'হীরামন'। দীর্ঘদিন খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলার পর অবশেষে ভেঙে ফেলা হলো জেলার এই একমাত্র হলটিও।

১৯৭০ সালে শহরের কোর্ট স্টেশনের পিছনে ‘হীরামন’ সিনেমা হলটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিলো। প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছরের মাথায় এস হলটি এখন কেবলই স্মৃতি।

হীরামন সিনেমা হল এর পরিচালক শেখ সুলতান তপু সমকালকে বলেন, 'বর্তমান সময়ে সিনেমা হলের ব্যবসা একেবারেই মন্দা। চলচ্চিত্রের যে পরিস্থিতি তাতে হল মালিকরাও হল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দর্শকরা এখন আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে চাননা। সিডি, ভিসিডি আসার পর থেকেই সিনেমা ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করে। আর এখন ইন্টারনেট, ডিস এন্টেনা, মোবাইল ফোনসহ নানা প্রযুক্তির বদৌলতে দর্শকরা ঘরে বসেই সিনেমা দেখতে পারছেন। এছাড়া একটি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পাইরেটেড কপি বের হয়ে। তাই ব্যবসা না হওয়াতেই হীরামন ভাঙা হয়েছে।'

ভেঙে ফেলা হচ্ছে হীরামন সিনেমা হল

পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলা শহরের বাসিন্দাদের চিত্তবিনোদনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ‘বিজয় টকিজ’ সিনেমা হল। শহরের অজহর রোডে অবস্থিত এ প্রেক্ষাগৃহটি পরিচালনা করতেন প্রকৃত মিত্র ও হিরণ মিত্র নামের দুই ব্যবসায়ী। পরবর্তী সময়ে এটির মালিকানায় যুক্ত হন আবদুল হালিম মিয়া নামে আরও একজন।

১৯৬৩ সালে এটির মালিকানা হস্তান্তর হয়। তখন ক্রয়সূত্রে প্রেক্ষাগৃহটির মালিক হন নওয়াব আলী মিয়া। ‘বিজয় টকিজ’ এর বদলে তিনি এটির নতুন নাম রাখেন ‘হাসনা টকিজ’। এর জমজমাট ব্যবসায় খুশি হয়ে নওয়াব আলী মিয়া ১৯৭০ সালে শহরের কোর্ট স্টেশনের পিছনে ‘হীরামন’ নামে আরও একটি প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করেন।

বিগত পাঁচ বছর ধরে হীরামন সিনেমা হলে কোনো ব্যবসা নেই জানিয়ে এর পরিচালক বলেন, 'অনেক চেষ্টা করেছি হলটি চালু রাখার জন্য। কিন্তু প্রায় চার পাঁচ বছর ধরেই হলে থেকে কোনো ব্যবসা নেই। একটি প্রযোজনা সংস্থার সহায়তায় হলটি কোনো রকম চালু রাখা হয়েছিলো। লভ্যাংশের একটি অংশ তারা নিয়ে যেতো। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এবং আর্টফিল্ম জাতীয় ছবি প্রদর্শন করলে কিছু দর্শক সমাগম হতো। এছাড়া দুই ঈদের সময় হলটি চলতো বাকি সময় বন্ধ থাকতো। লকডাউনের প্রায় বছরখানেক আগে থেকেই হলটি বন্ধ ছিল। আর লকডাউন এর পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সিনেমা হল ভেঙে এখন বড় বড় মার্কেট হচ্ছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেউ এই ব্যবসায় টিকে থাকতে পারছে না।'

তবে হীরামন বন্ধ ভেঙে ফেললেও সরকার সহযোগিতা করলে পুনরায় সিনেমা হল দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান তিনি।