পূর্ণিমা। চিত্রনায়িকা। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন। সম্প্রতি অংশ নিয়েছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের 'গাঙচিল' ছবির কাজে। এ ছাড়াও অভিনয় করছেন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে। মুক্তি পাচ্ছে ওয়েব সিনেমা 'মুন্সিগিরি'। সমসাময়িক ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে-

দীর্ঘদিন পর সিনেমার শুটিংয়ে ফিরলেন...

বন্দিজীবন থেকে কে না মুক্তি চায়! আমিও চেয়েছি। দিন গুনেছি অভিনয় ভুবনে ফেরার। যাক, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি একটু একটু করে বদলাচ্ছে। মানুষ ব্যস্ত হয়ে উঠছে যে যার কাজে। তাই আমাকেও ফিরতে হয়েছে। 'গাঙচিল' ছবির কাজ আগেই কিছুটা করা ছিল। এখন যেটুকু বাকি আছে তা শিডিউল মিলিয়ে শেষ করার পরিকল্পনা করেছেন পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। এবারে টানা ছবিটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

এবার আপনার অভিনীত প্রথম ওয়েব ছবি 'মুন্সিগিরি' নিয়ে বলুন...

অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত 'মুন্সিগিরি' দারুণ এক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এ ছবির মাধ্যমে প্রায় ১৩ বছর পর চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করেছি। এর আগে 'বুনো ফুলের ঘ্রাণ' নামে একটি টিভি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। ২০১৫ সালের রোজার ঈদে নাটকটি প্রচার হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করে ভালোই লেগেছে। পাশাপাশি অমিতাভ রেজার নির্মাণ। সব মিলিয়ে দারুণ একটি কাজ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এটি মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে ছবিটির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। সেগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ফলে আশা করছি, দর্শকদের কাছে 'মুন্সিগিরি' ভালো লাগবে।

এই ওয়েব ছবির পর অনেক প্রস্তাব আসার কথা...

বলতে পারেন, প্রায় প্রতিদিন ২-৩টি ওয়েব ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। প্রস্তাব এলেই যে অভিনয় করতে রাজি হবো, তা নয় কিন্তু। গল্প, চরিত্র, লোকেশন, বাজেট এসবের একটা ব্যাপার আছে। এখন পর্যন্ত যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সেগুলো পড়ছি। দু'একটি কাজ ভালো লেগেছে। আশা করছি, এগুলোর মধ্য থেকে খুব শিগগির নতুন কাজ শুরু করব।

এ তো গেল ওয়েব ছবির কথা। এবার সিনেমায় অভিনয় নিয়ে বলুন...

ওয়েব ছবিও কিন্তু সিনেমাই। পার্থক্য শুধু পল্গ্যাটফর্মে। তারপরও অনলাইন মাধ্যমে সিনেমা দেখা আর সিনেমা হলের পর্দায় দেখার মজাটা আলাদা। আমি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভালো গল্পের কাজকে প্রাধান্য দিয়েছি; এখনও দিচ্ছি। গল্প ভালো হলে মাধ্যম আমার কাছে কোনো ব্যাপার না।

কিন্তু আপনি তো গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিক ধারার অনেক ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন...

দেখুন, সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচি বদলেছে। বিশ্ব সংস্কৃতি যখন হাতের মুঠোয়, তখন প্রতিটি কাজ করতে হয় প্রতিযোগিতা করে। যে ধরনের কাজ দর্শক বহুবার দেখেছেন, সে কাজে দর্শক মনোযোগ কেড়ে নেওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। তা ছাড়া নিজেও চাইছি এমন কিছু কাজ করতে, যা দর্শক অনেক দিন মনে রাখবেন। তাই কাজের সংখ্যা কম কি বেশি, তা ভাবি না। যে ধরনের গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে চাই, তার সুযোগও সব সময় আসে না। এ জন্য সময় নিয়ে হলেও যা দর্শকের ভালো লাগবে এবং নিজেও অভিনয় করে তৃপ্তি পাব, সেগুলোই করতে চেয়েছি।

উপস্থাপনা নিয়ে নতুন খবর আছে?

আমি পেশাদার উপস্থাপক নই। তবে উপস্থাপনা ভালো লাগে বলেই মাঝেমধ্যে করি। আপাতত নতুন খবর নেই। ভালো আয়োজন হলে আবার দেখা যাবে। আপাতত অভিনয় নিয়েই আছি।