মানুষের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে অনেক না বলা গল্প তৈরি হয়। যে গল্পের কোনোটি  হৃদয়বিদারক, কোনোটি হাসির, কোনটি আবার গর্ব করে বলার মতো। অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের আজকের যে সফল জীবন দেখছেন তার পেছনেও এমন অনেক গল্প রয়েছে। ‘রেহানা মরিয়ম নুর’ নিয়ে কান ঘুরে আসার পর বাঁধন মনে করছেন সেসব এখন মানুষের সামনে বলার সময় হয়েছে তার। যে গল্প থেকে সমাজের নারীরা সাহস পাবেন। পাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রাণশক্তি।

সম্প্রতি বলিউডের নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া‘ সিনেমার শুটিং করে মুম্বাই থেকে ঢাকায় ফিরেছেন বাঁধন। ফিরেই গণমাধ্যমর্মীদের সঙ্গে এক আড্ডার আয়োজন করলেন। ’রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির সহপ্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেন্সমেকারস প্রোডাকশনের গুলশানের অফিসে সে আড্ডা হয়। আড্ডায় বেশ অকপটে ছিলেন বাঁধন। জানালেন তার জীবনের কালো এক অধ্যায়ের কথা।


সেই গল্প বলতে বাঁধনের গা শিউরে উঠলেও কণ্ঠে ছিলো দৃঢ়তা। বাঁধন বলেন, ’এসব বলতে এখন আর আমার ভয় নেই। কারণ আমি আর এখন আগের দুর্বল বাঁধন নই।’ 

সময়টা ২০০৫। সে সময় দুই দুই বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বাঁধন।  তিনি বলেন, ‘সে সময় আমার সঙ্গে অনেক অবিচার হয়েছে এবং পারিবাহিকভাবে অনেক সহিংসতার শিকার হয়েছি। সে কারণেই দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি। তাই সব মিলিয়ে সে সময়টা আমার জন্য খুবই কঠিন একটা সময় ছিলো।’

বাঁধন যখন জীবনের এসব কালো অধ্যায়ের কথা বলছিলেন তখন তার চোখে মুখে ছিলো বিজয়ের হাসি। কঠিন পরিস্থিতি জয় করে কানের লাল গালিচা মারানো হাসি। সে  জয় তাকে আজকের গল্প বলতে সহায়তা করছে, সাহস যুগিয়েছে।

বাঁধন বলেন, ‘তখন যদি আমি মরে যেতাম অনেক নিউজ হতো। বলা হতো যে, যুদ্ধ করতে করতে মরে গেলো মেয়েটি, নির্যাতিত হতে হতে মারা গেলো। যেহেতু আমি মারা যাইনি তাই আমি মনে করি এখন জীবিত ডাইনি হয়ে গেছি।’ 

বাঁধন মনে করেন, তার এই মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া জীবনটা এখন সমাজের অন্য নারী, যারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি চান তাদের জন্য অনুপ্রেরণার। সাহস সঞ্চয়ের।  বাঁধন বলেন, 'আমার আশে পাশের নারীরা যারা  এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা যখন আমাকে বলেন, আমি কোনো অ্যাসিভমেন পেলে এটা  তাদের অর্জন বলে মনে হয়। এটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে এবং বড় প্রাপ্তির মনে হয়।' 


তবে বাঁধনের বড় প্রাপ্তির জায়গা হচ্ছে তার মেয়ে, যে মাকে ক্রমাগত বিজয়ের হাসি হাসতে দেখছে। বাঁধনের ভাষ্য, ‘এখন যখন সবই আমাকে বলেন, বাঁধন এখন তোমার এতো এতো অ্যাচিভমেন, তুমি এতো এতা কিছু করে ফেলতেছো, তুমি কানে চলে গেছো, তুমি বলিউডের বিশাল ভরদ্বাজের কাজ করছো। তোমাকে নিয়ে এতো আলোচনা হচ্ছে,  এতো বড় একটা অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়েছো। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে আমার মেয়ে আমাকে হেরে যেতে দেখছে না। আমি মনে করি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তির জায়গা।’  

আড্ডার এক ফাঁকে জানা গেল, যে ছবি নিয়ে বাঁধন হেলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে, হাঁটলেন লাল গালিচায়, সুযোগ পেলেন বলিউডে, পাচ্ছেন বিদেশি পুরস্কার, সেই ’রেহানা মরিয়ম নুর’  বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ১২ নভেম্বর।  সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু জানালেন এই তথ্য। 

দুইবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন বাঁধন

দুইবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী বাঁধন। বলিউডের ছবি ‘খুফিয়া’র শুটিং শেষে ঢাকায় ফিরে জানালেন জীবনের অন্ধকার এক অধ্যায়ের কথা। শুনুন তার মুখ থেকেই video: Anindo mamun

Posted by Samakal on Monday, November 1, 2021