ভিনি, ভিডি, ভিসি—এলাম, দেখলাম, জয় করলাম' কথা জুলিয়াস সিজারের। চিত্রনায়িকা মৌসুমীর বেলায় যেনো এমন কথাই খাটে। কারণ প্রথম ছবি 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' এ অভিনয় করেই হয়ে উঠেন। এর পরের ইতিহাস তো সবার জানা। আজ ঢাকাই ছবির এই 'প্রিয়দর্শিনী' নায়িকার  জন্মদিন । 

দিনটি সহকর্মীদের বাড়তি ভালোবাসায় সিক্ত হোন তিনি। ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান তাকে। রাতে কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটেন কেক। 

তবে এবারের জন্মদিনে দেশে কেক কাটা হচ্ছে না তার। কারণ কিন্তু এবছর মেয়ের সাথে সময় কাটাতে দেশের বাইরে আছেন তিনি।  তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও শুভাকাঙ্খিরা শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করছেন না। 


মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, ২৭ বছরে ধরে মৌসুমীর জন্মদিন পালন করে আসছি। ওর  জন্মদিনটিআমার পরিবারের জন্য একটা অন্যরকম বিশেষ একটা দিন। আজ একসাথে থাকার ইচ্ছে ছিল আমার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। মৌসুমী রয়েছেন সূদুর আমেরিকাতে। এখান থেকেই মহান আল্লাহর কাছে তার দীর্ঘ  জীবন কামনা করছি।'

চলচ্চিত্রে মৌসুমীর যাত্রা শুরু হয় নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে।  সালমান শাহ’র বিপরীতে সেই সিনেমাটির নাম ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। মুক্তির পর ছবিটি তুমুল হিট হয়, সেইসঙ্গে ঢাকাই সিনেমায় এই এক ছবি দিয়েই নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তৈরী করেন মৌসুমী। অথচ প্রথমে মৌসুমীই নাকি প্রথমে সিনেমায় আসতে চাননি । তাকে চলচ্চিত্রে আনতে বহু কাঠখড় পোহাতে হয়েছে নির্মাতা সোহানকে। 

মৌসুমির জন্মদিনে  তাকে চলচ্চিত্রে আনার কথা স্বরণ করলেন সোহানুর রহমান সোহান।  তিনি বলেন, আমি প্রথম মৌসুমীকে আবিষ্কার করি পত্রিকার পাতায়। ‘দৈনিক বাংলা’ নামে তখন একটি পত্রিকা ছিলো, আমি এফডিসিতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম আর পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি একটি মেয়ের ছবি। দেখে মনে হলো একে দিয়ে ছবিতে কাজ করানো যায়। কিন্তু মেয়ের ঠিকানা তো জানি না। সেই সময় বিনোদনে কাজ করতো এখনকার নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার। তাকে বললাম মেয়েটার ঠিকানা যোগার করতে। সাক্ষাৎকার নিবে বলে গুলজার মেয়েটার সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করলো। নির্মাতা পরিচয় গোপন রেখে মেয়েটার সাথে দেখা করলাম। সামনাসামনি দেখে ও কথা বলে মেয়েটাকে আরো পছন্দ হলো। এরপরে কীভাবে যেন তার পরিবারের সাথে একটা দুর্দান্ত সম্পর্ক হয়ে গেলো। সম্পর্ক সহজ হলে তাকে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব করলাম। কিন্তু কিছুতেই রাজি হলো না। হঠাৎ একদিন রাত তিনটার দিকে ল্যান্ডফোনে কল করে আমাকে বললো,‘সোহান ভাই, আমি সিনেমা করতে চাই।’।

এরপরের ইতিহাসতো সবারই জানা। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ এর পর সবার প্রিয় অভিনেত্রীতে পরিণত হন মৌসুমী।