ইরেশ যাকের। মডেল ও অভিনেতা। ১৯৭৬ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অন্যদিকে ১৯৪৪ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন তার বাবা আলী যাকের। আসছে ২৭ নভেম্বর কিংবদন্তি এই অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রথম মৃত্যুবাষিকী। মৃত্যুর পর বাবার প্রথম জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

জন্মদিনে সমকাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। এবার জানতে চাই দিনটি কীভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করছেন?

ধন্যবাদ। বাবা [আলী যাকের] আর আমার একই দিনে জন্ম। তিনি আমাদের মাঝে নেই। তাই বাবাকে ছাড়া জন্মদিন! ভাবতেই পারছি না। করোনার আগে আমরা দু'জনে বেশ ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করেছি। বাবা না থাকায় আর হয়তো সেভাবে জন্মদিন কখনও উদযাপন করা হবে না। আজকের পুরোটা সময় বাবার স্মৃতির সঙ্গেই কাটবে। বাবা অফিসের যে ঘরে বসতেন সেখানে মেমোরিয়াল কেন্দ্র করেছি। অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে সেখানে কেক কাটা হবে। বাবার নাট্যদল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের আয়োজনে সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হবে এক স্মরণসভা। সেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাবার কাছের মানুষরা উপস্থিত থাকবেন।

বাবাকে ঘিরে বিশেষ কোন স্মৃতি মনে পড়ে?

নিজ নিজ ব্যস্ততার কারণে আমাদের একসঙ্গে থাকার সুযোগ ছিল না। অথচ বাবা চলে যাওয়ার আগের শেষ আট মাস আমরা একই বাড়িতে একসঙ্গে কাটিয়েছি। আমাদের গ্রামের বাড়ি রতনপুরে গিয়েছি, যা আমরা আগে কল্পনাও করতে পারতাম না। আমরা টানা এক মাস প্রতিদিন একসঙ্গে টিভিতে খেলা দেখেছি। এটাও অবিশ্বাস্য। বাবার শেষ জন্মদিনেও আমরা গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে জন্মদিনের কোনো আয়োজন না থাকলেও দারুণ আনন্দ করেছিলাম আমরা। বাবা চলে যাওয়ার আগে অনেকটা সময় তার সান্নিধ্যে পেয়েছি-এটাই আনন্দের। বাবা ও আমার একই দিনে জন্মদিন হওয়ার দিনের প্রথমভাগে আমার জন্মদিন উদযাপন হতো। রাতে থাকত বাবাকে ঘিরে আয়োজন। সেখানে বাবার বন্ধুরা থাকতেন।

বাবার স্মৃতি সংরক্ষণে কোনো পরিকল্পনা আছে?

বাবার কাজ চিরস্মরণীয়। বাবা মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অনেক কাজ করেছেন। তার অভিনীত 'নূরুলদীনের সারাজীবন', দেওয়ান গাজীর কিসসা', 'গ্যালিলিও', 'ম্যাকবেথ', 'কবর'সহ আরও অনেক নাটকের চরিত্র দর্শকের মনে এখনও গেঁথে আছে। তাই বাবার স্মৃতি সংরক্ষণে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। তার শৈশব নিয়ে একটি প্রজেক্ট করার ইচ্ছা রয়েছে। এটি কত বছরে করতে পারব তা জানি না। তাকে নিয়ে একটা বই প্রকাশেরও পরিকল্পনা চলছে।

আপনার জীবনে বড় পাওয়া কী ?

আমার এই স্বল্প জীবনে আলী যাকের আর সারা যাকেরকে বাবা-মা হিসেবে পেয়েছি। নিজে বাবা হয়েছি। এর চেয়ে আর বড় পাওয়া কী হতে পারে।