‘কসাইখানার বাছুরের ডাক শেষডাক যতো আ’ শিল্পী কফিল আহমেদের গানের কথা। পৃথিবীর যে যেখানে বন্দি দশায় থাকে সে সেখানে মুক্তির লড়াই করে। মানব মুক্তির লড়াই পৃথিবীর ইতিহাসের পরতে পরতে লেখা আছে। কেবল মানুষই কি মুক্তির লড়াই করে? মানুষ ছাড়াও স্রষ্টার সৃষ্ট অন্য জীবও নিজ নিজ অবস্থান বন্দিদশা থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করে। আর কফিলের গানের শেষডাকের যতো আ মানে তো সমগ্র অস্তিত্ব নিয়ে বাঁচতে চাওয়ার ব্যকুলতা। সেই ব্যকুলতা সব প্রাণীরই আছে। এই যেমন বাঁচার ব্যকুলতা দেখা গেলো ব্রাজিলের একটি কসাইখানার এক গরুর। 

ব্রাজিলের এক কসাইখানা থেকে একটি গরু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কসাইখানা থেকে পালিয়ে গরুটি পার্শ্ববর্তী একটি ওয়াটার পার্কে চলে যায়। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও থেকে ৫০০ মাইল দূরের নোভা গ্রানাডায়। 

মাংসের জন্য গরুটি একটি খামারে লালন-পালন করা হয়েছিল। সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে গরুটি ইন্ড্যায়া ক্লাব ডি ক্যাম্পো নামে একটি ওয়াটার পার্কে চলে যায়। পার্কের ওয়াটার স্লাইডের শীর্ষে পৌঁছার আগ পর্যন্ত গরুটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। গরুটির ভাগ্য ভালো ছিল, কারণ সে যখন ওই পার্কে যায় তখন সেখানে কোনো মানুষ ছিল না। তাই সে নির্ভয়ে এবং সর্তকতার সঙ্গে স্লাইডে চড়তে পেরেছিল। পরে আস্তে আস্তে ব্লু অ্যামাউজমেন্ট পার্কের স্লাইড দিয়ে পিছলিয়ে নিচে নেমে আসে সে। স্লাইডটিতে তখন পানি না থাকায় সেটি তেমন পিচ্ছিল ছিল না। যা গরুটিকে নিচে নেমে আসতে সাহায্য করে।  

অদ্ভুত এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কীভাবে গরুটি মুক্তি পেয়ে ওয়াটার পার্কের ভেতর গেলো। সাধারণত জায়গাটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে যেন রাতে কেউ সেখানে ঢুকতে না পারে। সে যাই হোক, গরুটিকে স্পষ্ট ওয়াটার স্লাইডে দেখা গেছে এবং তাকে স্লাইড দিয়ে নিচে নামতেও দেখা গেছে। 

ক্লাবটির পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, পানি থেকে উদ্ধার করে বাইরে আনার আগে এক ব্যক্তি গরুটিকে দড়ি দিয়ে বেধে পুলের দিকে যেতে প্ররোচিত করে। তবে ছোট পুলে যাওয়ার এই ঘটনা গরুটিকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে বলা যায়। 

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এই যে, পার্কের ওই স্লাইডটি ৪৫০ পাউন্ড ওজনের ভর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। অথচ দিব্যি প্রায় ৭০০ পাউন্ড ওজনের গরুটি সেটিতে উঠলেও তা ভেঙে যায়নি। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ খামারিকে খবর দেয়। গরুর এমন কাণ্ডে খামারি অভিভূত হয়ে তাকে জবাইয়ের পরিবর্তে পোষার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি তার একটি নামও দেন তিনি। নামটি হলো ‘তোবোগা’, পর্তুগিজ ভাষায় এই শব্দটির অর্থ হলো পিছলাইয়া চলা।  

খামারি বলেন, আমি দেখতেছিলাম সে  কোথাও আঘাত পেয়েছে কিনা। সবকিছু ঠিক আছে। মানুষের জন্য সে এখানে থাকবে। মানুষ জানতে চায় সে কোথায়। সে সবাইকে আকৃষ্ট করেছে। সবাই জানতে চায়। আমরা তাকে ওই ক্লাবে নিয়ে যেতে চাই।