আরিফিন শুভ। তারকা অভিনেতা। আগামী ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত ছবি 'মিশন এক্সট্রিম'। প্রযোজনা সংস্থা কপ ক্রিয়েশনের ইউটিউব চ্যানেলে গতকাল প্রকাশ হয়েছে এ অভিনেতার গানওয়া র‌্যাপ গান 'কইরা দেখা'। এ গান ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

এখন কোথায় আছেন?

'বঙ্গবন্ধু' ছবির ক্যাম্পে আছি। গত বৃহস্পতিবার থেকে ক্যাম্পে ঢুকেছি। পুরো ডিসেম্বরই আমাকে ক্যাম্পে থাকতে হবে। শুটিংয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বেশ কিছুদিন ঢাকায় এর শুটিং হবে।

কোন ভাবনা থেকে 'কইরা দেখা' র‌্যাপ গান গাইলেন?

'মিশন এক্সট্রিম' অ্যাকশনধর্মী ছবি। 'অ্যাকশনের সঙ্গে র‌্যাপের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দেশে র‌্যাপ লাভারের সংখ্যা কম নয়; র‌্যাপ গানও কম হয়। সেখানে ছবিতে তো বলতে গেলে নেই। প্রচারণায় কখনও শুনিনি। আগে হয়নি বলে নতুনত্ব আনতে চেয়েছি। তাই সবদিক বিবেচনা করে আমরা প্রমোশনাল সং হিসেবে একটি র‌্যাপ গান উপহার দিয়েছি। এর সংগীত পরিচালনা করেছেন অদিত। গানের কথা লিখেছেন ব্ল্যাক জ্যাং। আশা করছি, গানটি সবার ভালো লাগবে। এতে ছবির পেছনের যুদ্ধও দর্শক দেখতে পাবেন।

কিছুদিন আগে 'মিশন এক্সট্রিম' ছবির ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, ট্রেলারে শুভকে সেভাবে পাওয়া যায়নি...

এ রকম কথা আমিও শুনেছি। আমরা ট্রেলারে সব দেখিয়ে দিই। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এ ছবির ট্রেলার এমনভাবে বানানো হয়েছে, যাতে হলে গিয়ে দেখার প্রতি দর্শকের আগ্রহ থাকে। দর্শকদের হলমুখী করার জন্যই এটা করা হয়েছে। আমি যদি ট্রেলারে সব ম্যাজিক দেখিয়ে দিই, তাহলে দর্শক হলে গিয়ে কী দেখবেন? ট্রেলারে শুধু আইডিয়া দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ট্রেলারে চমক আছে ১০ ভাগ। ৯০ ভাগ দেখানো বাকি। ৯০ ভাগ থেকে তুলে কিছু কিছু ট্রেলারে দিতে পারতাম। তাহলে ট্রেলার সুপারহিট হতো। ট্রেলার হিট মানে ছবি হিট নয়। আমাদের টার্গেট হচ্ছে ছবিকে হিট বানানো। যাতে ছবিটি দর্শকনন্দিত হয়; দর্শক যেন হলে গিয়ে এটি দেখেন।

'মিশন এক্সট্রিম' নিয়ে কেমন আশাবাদী?

বেশ আশাবাদী। বিগ বাজেটের ছবি ইতিহাসে অনেক হয়েছে। কিন্তু মিশন এক্সট্রিমের জন্য যা করেছি তা অন্য কেউ করেনি। এটা না করলেও কি ছবিটি হতো না? কেন করেছি, সেটা জানার জন্য হলে যেতে হবে। ফাঁকা বুলি দিয়ে আরিফিন শুভ দর্শক হলে নিতে চায় না। অন্তত এটি বলতে পারি, দর্শক হলে গিয়ে নিরাশ হবেন না।


সম্প্রতি 'নূর' ছবির কাজ শেষ করেছেন। এ নিয়ে কিছু বলুন।

একই ধাঁচের কাজ করতে ভালো লাগে না। 'ছুঁয়ে দিলে মন'-এর পর খাঁটি ভালোবাসার গল্পের ছবি হলো 'নূর'। ছবির উপাত্ত দু'জন মানুষের সম্পর্ক, প্রেম। এটি মফস্বলকেন্দ্রিক গল্প। আমার দর্শকের জন্য নতুন। দর্শকের কথা ভেবেই আমি কাজ করি। 'ছুঁয়ে দিলে মন' দর্শক বেশ উপভোগ করেছিলেন। তার মাঝখানে অ্যাকশন থ্রিলার, বায়োপিকের কাজ হয়েছে। এর বাইরে গিয়ে কিছু একটা করতে চেয়েছি। অভিনয়ের পাশাপাশি এতে আমি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছি। সব মিলিয়ে কাজটি চ্যালেঞ্জিং ছিল।

তারকাখ্যাতি কতটা উপভোগ করেন?

স্টার, মেগাস্টার, সুপারস্টার- কোনো কিছু ভালো লাগে না। এই সময়ে আমার কাছে এসব গালি মনে হয়। আগে হল ছিল ১২০০। এখন ৫০টা গুনলেও ঠিকমতো পাওয়া যাবে না। যেদিন হাজারটা হল হবে, সেদিন এসব শুনতে ভালো লাগবে। সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করছি। মুখে বলে তারকা হতে চাই না।