পরীক্ষার ফিসহ পাওনাদি পরিশোধের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ অপমান করায় পূজা রানী (১৮) নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। পূজা বগুড়ার সুখানপুকুর নতুনপাড়া এলাকার প্রদীপ চন্দ্র সূত্রধরের মেয়ে এবং স্থানীয় ˆসৈয়দ আহম্মদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

জানা গেছে, দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয় ১৮ নভেম্বর। এর কয়েকদিন আগে থেকে বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফিসহ পাওনাদি আদায় করতে থাকে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পূজা পাওনাদি দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রবেশপত্র ছাড়াই তিনি পরীক্ষা দিতে থাকেন। শনিবারে পরীক্ষা দিতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাকে অপমান করে এবং পরবর্তী পরীক্ষার দিন পাওনাদি পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্দেশ দেয়। পূজার বাবা ঢাকার আঠালিয়ায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। পূজারা ৪ বোন, কোনো ভাই নেই। তিনি সবার বড়। তিনি বাবার কাছে পাওনা পরিশোধ করতে এক হাজার টাকা চাইলেও তার বাবা তা দিতে পারেননি।

এ অবস্থায় সোমবার সকালে সবার অজান্তে ঘরের ভেতর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন পূজা। তার মা টের পেয়ে প্রতিবেশীদের জানালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তদন্ত করার জন্য মর্গে পাঠায়।

পূজার চাচা প্রবীর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, তাদের অভাবের সংসার। তাই লেখাপড়ার খরচ জোগানে সম্ভব না হওয়ায় মনের দুঃখে সে আত্মহত্যা করেছে। পূজার মা শিমু রানীও একই কথা বলেন। তবে সৈয়দ আহম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুজ্জ্মান দাবি করেন, একটি মহল কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। গাবতলী মডেল থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।