ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

যাদের জন্য গান করি তাদের চাওয়াকে প্রাধান্য দিতে হয়: ঐশী

যাদের জন্য গান করি তাদের চাওয়াকে প্রাধান্য দিতে হয়: ঐশী

ঐশী

সাদিয়া মুনমুন

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৪:১৪

তাঁর অনিন্দ্য গায়কি আর সুমধুর কণ্ঠ মুগ্ধ করেছে অগণিত শ্রোতাকে। মেলোডি সুরের রোমান্টিক গান থেকে শুরু করে পপরক, ফোক ফিউশন, টেকনোসহ নানা ধরনের গানে রেখেছেন পারদর্শিতার ছাপ। নজরুলসংগীত গেয়েও মনোযোগ কেড়েছেন সংগীতপ্রেমীদের। একইভাবে ধারাবাহিক অ্যালবাম ও একক গানের প্রকাশনা ধরে রাখার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল, সিনেমায় প্লেব্যাকে শিল্পী হিসেবেও সমানতালে গেয়ে চলেছেন।

রেডিও-টিভি আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মঞ্চে পারফর্ম করে দিন দিন বাড়িয়ে চলেছেন অনুরাগীর সংখ্যা। সেই সুবাদে স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আরও বেশকিছু পুরস্কার ও সম্মাননা। এটুকু বলার পর অনেকেই নিশ্চয় বুঝে গেছেন, কোন শিল্পীর কথা বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, বলছি  কণ্ঠশিল্পী ঐশীর কথা। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন। যে কারণে গানের প্রতিটি মাধ্যমেই কান পাতলে শোনা যায় তাঁর অনিন্দ্য কণ্ঠস্বর।

মনোযোগ কেড়ে নেয় তাঁর গায়কির নিজস্বতা। যদিও এ সময়ে এসে ঐশী সম্পর্কে এসব কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। তাঁর কাজের খবরাখবর কমবেশি সবারই জানা। নতুন যে বিষয়টি, তা হলো– বিয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় জীবন শুরুর পর গানের ভুবনে তাঁর পদচারণা কমে গেছে কিনা। কেননা, আগের তুলনায় তাঁর নতুন গান শোনার সুযোগ কমই পাচ্ছেন শ্রোতারা।

এ নিয়ে ঐশীর ভাষ্য, ‘বিয়ের পর ঘর-সংসার গোছানোর একটা বিষয় থাকে। অন্যদিকে চিকিৎসক হিসেবেও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তা ছাড়া পড়াশোনার পাট এখনও খানিকটা বাকি। এ সবকিছু সামলেই নতুন গানের আয়োজন নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। তাই ছোট্ট একটি বিরতি পড়েছে। আশা করছি, নতুন বছরে আরও জোরালোভাবে গানের ভুবনে ফিরতে পারব।’

ঐশীর এ কথা থেকে বোঝা গেল, শিগগিরই তিনি শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণে আগের মতোই ব্যস্ত হয়ে উঠবেন। এখন প্রশ্ন হলো, আধুনিক গানের পাশাপাশি তাঁর ফোক ফিউশন আয়োজনও ধারাবাহিকভাবে করে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘যাদের জন্য গান করি, শিল্পীজীবন বেছে নেওয়া– তাদের চাওয়াকে প্রাধান্য দিতেই হয়। কারও যদি আমার কাছে কিছু প্রত্যাশা থাকে এবং আমি যদি তা পূরণ করার চেষ্টা না করি, শিল্পচর্চার সার্থকতা কোথায়! গানে গানে মানুষের ভালোবাসা কুড়াতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তাই ভক্ত-শ্রোতার কাছে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেই ভালোবাসার দাবি পূরণ না করলেই নয়। শুধু ফোক কেন, তাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য যত রকম গান গাইতে পরি, সবই গাওয়ার চেষ্টা করে যাব। তা ছাড়া এটিও সত্য যে, ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার স্বপ্ন লালন করে আসছি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আধুনিক গান গাইছি। অনেকের সাড়াও পেয়েছি। যারা আমার আধুনিক গান পছন্দ করেন, তাদের জন্য নতুন আয়োজন না করলেই নয়। একইভাবে ফোক গানও আজীবন গাইতে চাই। কারণ, এতে মিশে আছে শিকড়ের নির্যাস।’

শুধু আধুনিক বা লোকগান নয়, ঐশীর দুর্বলতা আছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনবদ্য সৃষ্টির প্রতি। মা-বাবার কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত শুনে শুনেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাদের কাছে শেখারও সুযোগ হয়েছে। অন্যদিকে বরেণ্য শিল্পী সুজিত মোস্তফার কাছে তালিম নেওয়া সুযোগ হওয়ার কারণেই নজরুল সংগীতের প্রতি আগ্রহ। তাই আগামীতে ঐশীর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুলের গান শুনতে পেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। ঐশী নিজেও চান সাত সুরের আঙিনায় দিনমান ছুটে বেড়াতে আর গানপ্রেমী মানুষের জন্য ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে নানা রকম আয়োজন করতে। কারণ একটাই, গানই তাঁর প্রাণ।

আরও পড়ুন

×