'কয়েক বছর আগেও ভাবিনি, কল্পনা এভাবে বাস্তব হয়ে ধরা দেবে। কারণ সাধারণ দর্শকের মতো আমিও সিনেমা দেখতে দেখতে কল্পনার সাগরে ভেসে যেতাম। পর্দায় নায়িকার জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতাম। ভাবতাম, ইশ্‌ আমাকেও যদি বড়পর্দায় দেখা যেত, তাহলে দারুণ হতো। সময়ের ফেরে এই ভাবনা যে সত্যি হবে- তা নিজেও অনুমান করতে পারিনি।' চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর এমন কথাই শোনা গেছে অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর মুখে। তবে ঐশীর জন্য আনন্দের বিষয় হলো, শুধু বড়পর্দায় নিজেকে দেখা নয়, প্রথম ছবি 'মিশন এক্সট্রিম' নিয়ে দর্শকের উচ্ছ্বাস, উল্লাসও চোখে পড়েছে তার। প্রশংসাও শুনেছেন অগণিত দর্শকের মুখে। 

এ নিয়ে ঐশী বলেন, 'হলে বসে নিজের সিনেমা দেখার আনন্দ যেমন ছিল, তেমনি মনের মধ্যে একটু ভয়ও কাজ করছিল। ছবি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী হবে- সেটাই ছিল ভয়ের কারণ। কিন্তু ছবি শেষে দেখলাম, অনেকেই কাজের প্রশংসা করছেন। তাই ভালো লাগায় মনটা ভরে গেছে।' একটি ভালো কাজের সুবাদে দর্শক-প্রশংসা ঐশীর প্রাপ্যই ছিল বলা যায়।

'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ' নির্বাচিত হওয়ার পর ঐশীর জন্য চলচ্চিত্রের রঙিন ভুবনের দুয়ার খুলে গিয়েছিল। তারপরও ঐশী চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রেখেছেন বুঝেশুনে। জনপ্রিয়তার মোহে যে কোনো কাজ করার প্রতি তার কোনো আগ্রহ দেখা দেয়নি। 'মিশন এক্সট্রিম' ছবির পর 'রাত জাগা ফুল' ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় সে কথারই প্রমাণ দেয়। মীর সাব্বির পরিচালিত 'রাত জাগা ফুল' অন্যান্য ছবি থেকে খানিকটা ভিন্ন ধাঁচের। যেখানে ঐশী সুযোগ পেয়েছেন নিজের অভিনয়-প্রতিভা তুলে ধরার। একই সঙ্গে তার সুযোগ হয়েছে ভিন্নরূপে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার। কাছাকাছি সময় পরপর দুটি ভিন্ন ধাঁচের ছবি মুক্তি পাওয়া এবং দর্শকের প্রশংসা কুড়ানো, যেকোনো অভিনয়শিল্পী বা তারকার জন্য সৌভাগ্যের। সে কথা স্বীকার করেন ঐশী নিজেও। তিনি বলেন, 'এত অল্প সময়ে ভিন্ন দুটি ধাঁচের দুই গল্প ও চরিত্র নিয়ে দর্শকের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারে অন্যরকম। তা যদি দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়, তাহলে তা অনুপ্রেরণা জোগায় আগামী দিনের পথচলা নিয়ে। তাই চেষ্টা করব, দর্শকের প্রত্যাশার কথা ভেবে ভালো কিছু কাজ করতে।' ঐশীর মুখে এ কথা শোনার পর জানতে চাওয়া হয়েছিল, অভিনয় নিয়ে তার ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। তিনি জানান, সিনেমায় অভিনয়ের স্বপ্ন থাকলেও তারকাখ্যাতি নিয়ে কখনও আলাদা করে ভাবেননি। তাই শুরু থেকেই চাওয়া ভালো কিছু কাজের মধ্য দিয়ে দর্শক মনে ছাপ ফেলা। অন্যদিকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ঐশী বলেন, 'আমার প্রথম লক্ষ্য অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠার আগে দর্শক ও নির্মাতাদের কাছে নিজেকে যোগ্য করে তুলে ধরা। ভালো গল্প, চরিত্র ও নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়েই তা সম্ভব। তাই যখনই ভালো কিছুর সুযোগ পাব, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। কারণ, একজন পরিপূর্ণ শিল্পী হতে গেলে নিষ্ঠা আর একাগ্রতার বিকল্প নেই। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে একজন শিল্পী নানারূপে নানা চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পান। হয়তো আমিও তেমন সুযোগ পেতে পারি। কিন্তু কথা হলো, দর্শকের কাছে নিজেকে ভিন্নরূপে তুলে ধরার মধ্যেই সাফল্য আসে না। সেই চরিত্র দর্শকের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারলাম, সেটাই দেখার বিষয়।