ঢাকাই ছবির একসময়ের ব্যস্ত নায়িকা সুমনা জনা। শাকিল খানের বিপরীতে ‘হৃদয়ের বাঁশি’ দিয়ে অভিষেকের পর মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিব খান একাধিক নায়কের বিপরীতে প্রায় ৪০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় তিনি। পরে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তবে মাঝে মাঝে দেশে আসেন। সিনেমার মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

গত ১৩ ডিসেম্বর  শিল্পী সমিতির ভোট ও ব্যক্তিগত কিছু কাজে দেশে এসেছেন তিনি। দেশে এসেই যোগযোগ করেছেন সিনেমার সহকর্মীদের সঙ্গে, যান এফডিসিতেও। এফডিসিতে গিয়েই দুঃসংবাদটি শুনেন তিনি। শুনেন এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচন ভোট দিতে পারবেন না ৪০টি ছবির এই নায়িকা। 

বৃহস্পতিবার সমকালকে জনা বলেন, আমি দেশে এসেছি ১৩ ডিসেম্বর। এরপর থেকেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমাকে বলা হচ্ছে ফি নেওয়া যাবে না। আমি জানি, শিল্পী সমিতির জেনারেল মিটিং হয়েছে ৭ জানুয়ারি। এ দিন পর্যন্ত সবাই ভোটার হতে পেরেছে ও বকেয়া ফি দিতে পেরেছে। আর আমি তো ১৮৪ এর লিস্টে নেই। কেনোই বা থাকবো। আমি তো নরমালি আমার যে বকেয়া আছে সেটা পরিশোধ করবো। এটা নিয়ে এতো জটিলতা সৃষ্টি করার তো কিছু নেই। কিন্তু জায়েদ ও মিশা ভাই ইচ্ছে করে এটা করেছে।'

সমিতির সদস্য হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত সমিতির চাঁদা প্রদান করে আসছেন জনা। বার্ষিক পিকনিকেও কয়েকবার অর্থ সহযোগিতা দিয়েছেন বলে জানালেন। করোনার কারণে এক বছর দেশে আসতে পারেননি তিনি। তাই সমিতির চাঁদাও দিতে দেরি হয়েছে। অথচ এই অজুহাতেই তার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানালেন এই নায়িকা। 

সমিতির চাঁদা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জনা বলেন, 'তারা হয়তো মনে করেছে  কাঞ্চন ভাই, রিয়াজ-ফেরদৌস এদের যে প্যানেল আছে আমি তাদের সঙ্গে থাকবো। অথচ কাকে ভোট দেবো সেটা তো পরের হিসেবে। আগেই তারা এটা ধরে নিয়ে আমার ভোটাধিকার কেনো কেড়ে নেবে? আমি কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলে থাকবো এই ভেবে তারা আমার সঙ্গে এমন রাজনীতি করেছে।' 

বিষয়টি নিয়ে শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানালেন জনা। কমিশন সে অভিযোগপত্র মিশা-জায়েদ খানের কাছে পাঠিয়েছে বরে জনাকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু ভোট দিতে পারুক বা না পারুক জনার সঙ্গে যা হচ্ছে তা মূলত তার সঙ্গে অবমাননাকর বলেই মনে করছেন তিনি। 

সুদূর আমেরিকা থেকে এফডিসির টানে এসে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়বেন তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি বলে জানালেন। 

জনা বলেন, ১১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের একজনকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি আশাও দিয়েছিলেন। গতকাল জানালেন আমার ভোট দেওয়া সম্ভব হবে না। খুব কষ্ট পেয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি মন-প্রাণ দিয়ে এখন থেকে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলকে সমর্থন করব। কারণ মিশা-জায়েদ প্যানেল আমাকে ঠকিয়েছে।’