গত মেয়াদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি এর আগের মেয়াদেও। এবার ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনেও সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ভোট করছেন সিনেমার এই প্রখ্যাত খল অভিনেতা। তার প্যানেলের নাম 'মিশা সওদাগর-জায়েদ পরিষদ'। গত দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে শিল্পী সমিতির উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি সমকালকে বলেন, প্রতিশ্রুতির ৯৩ ভাগই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মিশা বলেন, 'যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বিগত দুই মেয়াদে, এর সবই বাস্তবায়ন করেছি। বাকি আছে শুধু একটা- সেটা শিল্পীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা। আমরা বলেছিলাম, জয়ী হলে যে শিল্পীদের ঢাকায় থাকার জায়গা নেই, তাদের জন্য সরকারের কাছ থেকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করব। এটা এখনও পারিনি। এবার জয়ী হলে এটা পূরণ করব। করোনার সময়ে কাউকে না পেলেও শিল্পীরা মিশা-জায়েদকে সব সময় পাশে পেয়েছেন। আমাদের এই ভালো কাজের জন্যই শিল্পীরা তাদের সর্বোচ্চ ভোটে আমাদের নেতৃত্বে আনবেন বলে আমার বিশ্বাস।'

শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে ইলিয়াস কাঞ্চনের অংশগ্রহণকেও ভালো চোখে দেখছেন তিনি। এটাও নিজেদের কৃতিত্ব বলেই দাবি করেন তিনি। মিশা বলেন, 'আমরা শিল্পী সমিতির সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করেছি। যেখানে আগে সিনিয়র শিল্পীদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এখন সেই সমিতি সিনিয়রদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে। ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের মতো একজন লিজেন্ড নির্বাচন করতে এসেছেন- এটা আমাদের বড় অর্জনই বলব।'

এবারের নির্বাচনে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল তারকানির্ভর প্যানেল বলে আওয়াজ উঠলেও মিশা সওদাগরের দাবি, তাদের প্যানেলও কম তারকানির্ভর না। তার মতে, 'আমাদের এই প্যানেলের মতো দ্বিতীয়টি আর পাওয়া যাবে না। এখানে সবাই দক্ষ ও সাংগঠনিক। মৌসুমী, সুচরিতা, অঞ্জনা, রোজিনা, অরুণা, ডিপজল, রুবেল, বাপ্পারাজ, আলীরাজ, আলেকজান্ডার বো, আসিফ ইকবাল, সুব্রত, নাদের খান, জয়, জ্যাকি আলমগীরসহ আরও অনেকে রয়েছেন আমাদের প্যানেলে। এরা একেকটা সিনেমার বারুদ। আর জায়েদ খান তো খুবই সাংগঠনিক।'

এদিকে অনেকের দৃষ্টিতে এফডিসিতে গত কয়েক বছর ধরে শুধু শিল্পী সমিতি' চর্চাই হচ্ছে; সেভাবে সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে না। তাহলে শিল্পী সমিতি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় কেন- এমন প্রশ্ন রাখলে মিশা বলেন, শিল্পী সমিতির কাজ কিন্তু সিনেমা নির্মাণ করা নয়। শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা করাই হলো শিল্পী সমিতির কাজ। সিনেমা নির্মাণ করবেন প্রযোজক, পরিচালকরা। আমরা শিল্পীরা অভিনয় করব। আর এটা তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এই কারণে আমরা খুবই দুঃখিত। আমাদের চেহারা দেখলেই দুঃখের বিষয়টা বোঝা যায়।

মিশা সওদাগর বলেন, আসলেই শিল্পী সমিতি কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নেই এখানে। শিল্পীদের সেবা করার জন্যই এই সংগঠন। এ ছাড়া আর কিছুই দেখছি না এখানে। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, আমি শিল্পী সমিতির পরিচয় কোথাও ব্যবহার করে লাভবান হতে চাইনি। আমি প্রথমত, অভিনেতা। এটা আপনারা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছেন। প্রথমে আমি শিল্পী, তারপর অন্য কিছু। আশা করি, বোঝাতে পেরেছি।