দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্ব কাঁধে নিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শুক্রবার খল অভিনেতা মিশা সওদাগরকে ৪৩ ভোটে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেবার তার প্যানেল থেকে সভাপতি হন খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সমকালের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। আলাপ করেন নানা বিষয়ে

নির্বাচনে জয়ী হলেন, প্রথমেই কাদের ধন্যবাদ জানাবেন?

আমি আগেই বলেছি, যদি জিতে আসি প্রথমে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দেবো। তাই আজ প্রথমেই সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই। এরপর যারা জয়ী হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ, যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরও ধন্যবাদ। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা দেশের মানুষকে। আমি কল্পনাও করতে পারিনি দেশের মানুষ আমাকে এতো ভালোবাসে! এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেটা আবার জানতে পারলাম। তাদেরকে আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা। কথা দিচ্ছি, যতদিন বাঁচি দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য ও চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করে যাবো। 

নায়ক হিসেবে আপনি সফল, 'নিসচা' করেও সফল, নতুন এই সংগঠনের দায়িত্ব কতটা সফল হবেন বলে মনে করেন?

নায়ক হিসেবে আমি কেমন তার প্রমাণ দর্শকদের কাছে আছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন কোথায় নিয়ে গিয়েছি সে সম্পর্কেও সবাই অবগত। এখন নতুন করে শিল্পী সমিতির যে দায়িত্ব নিয়েছি তার সাকসেসটা নির্ভর করছে অন্যদের সহযোগিতার ওপর। কারণ আমার পুরো প্যানেল জয়ী হয়নি। তাই ভাবতে হচ্ছে অন্য প্যানেল থেকে যারা এসেছেন তারা কতটা আমাকে সহযোগিতা করবেন। এখানে যদি সবার সহযোগিতা পাই তাহলে ইনশাল্লাহ সফল হবো।

আপনার পুরো প্যানেল জেতেনি। অন্য প্যানেলের যারা জিতেছেন তাদের নিয়ে কাজের পরিকল্পনা কি?

এখনও পরিকল্পনা করা হয়নি। সবার সঙ্গে কথা বলার পরই পরিকল্পনা ঠিক করবো। সকালে মিশা সওদাগরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকে বলেছি, তোমার যে অভিজ্ঞতা সেটা আমাদের লাগবে। আমরা যে উপদেষ্টা কমিটি করবো সেখানে মিশা সওদাগরকেও রাখবো। সে দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। তার সাহায্য আমার প্রয়োজন হবে।

আপনার জয়ের পেছনে কোন বিষয়টা বেশি কাজ করেছে বলে মনে করেন?

আমি মনে করি, ভালোবাসার ওপর কিছু নেই। ওই ভালোবাসা সব ক্ষেত্রে সবার আগে বেশি কাজ করে। আপনি যদি দেশপ্রেমিক হোন এবং দেশের মানুষের স্বার্থের কথা ভাবেন, সেটা নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ঠেকে থাকার কথা নয়। 

 দুই প্যানেলের দুই  ইশতেহার নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন?

এ বিষয়ে কথা বলেই কাজ শুরু করতে হবে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর প্রথম যে মিটিং হবে তখন তাদের সঙ্গে বসে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবো। দুই প্যানেলের ইশতেহার নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। দুই প্যানেলের ইশতেহারে যেটা সুন্দর ও ভালো সেটা উভয় পক্ষের গ্রহণ করেই আগাতে হবে।

জায়েদ খানের নামে অনেক নেতিবাচক কথা শোনা যায়। এখন আপনার সঙ্গে তার নাম উচ্চারিত হবে...

অনেক সময় তো পরিবর্তন হয়। সঙ্গের কারণে অনেক কিছুই হয়। আমি একজন সৎ মানুষ। আমার সতত দিয়ে যদি তাকে সুবাসিত করতে পারি এটা সাকসেস হবে।

নির্বাচনে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতিসহ এফডিসির ১৭ সংগঠনের লোকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য তারা এফডিসির এমডির পদত্যাগ চেয়েছেন। এতে আপনি সমর্থন দিয়েছেন?

আমি চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির দায়িত্বশীল কেউ না। তবে  নির্বাচন উপলক্ষে এফডিসিতে পরিচালক ও প্রযোজকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া আমাকে কষ্ট দিয়েছে। গেটে দেখেছি তাদের অপমানও করা হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। আমি সহানুভূতি জানাতে আজ পরিচালক সমিতিতে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি। তবে তাদের দাবি দাওয়ায় আমার সমর্থন দেওয়ার কিছু ছিলো না। কারণ আমি এখনও শিল্পী সমিতির ক্ষমতা হাতে পাইনি, প্রযোজক ও পরিচালক সমিতির নেতাও না আমি। তবে আমি বলবো, এফডিসিতে যত লোক প্রবেশ করেছে তার মধ্যে প্রযোজক ও পরিচালকদের আর তিন চারশ’ লোক থাকলে তেমন ক্ষতি হতো না।