'আমায় ডেকো না/ ফেরানো যাবে না/ ফেরারি পাখিরা/ কুলায় ফেরে না'- গানের কথার মতোই কাওসার আহমেদ চৌধুরী নিজেই আজ না ফেরার দেশে চলে গেলেন। হাজার ডাকেও আর তাকে 'ফেরানো যাবে না'। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়- কথাটি বোধহয় কাওসার আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে মানিয়ে যায়। ৭৯ বছরের জীবনেও অনেক স্বপ্ন দেখেছেন। তার কিছু পূরণ হয়েছে, আবার কিছু অধরাই থেকে গেছে। তার প্রথম পরিচয় তিনি একজন গীতিকবি; পাশাপাশি জ্যোতিষী হিসেবেও পেয়েছিলেন জনপ্রিয়তা।

বাংলা আধুনিক গান ও ব্যান্ড সংগীতের সফল একজন গীতিকার ছিলেন তিনি। তার লেখনী পার করেছে প্রজন্মের সীমানা। অনেক ছোটবেলা থেকেই তার সঙ্গে আমার পরিচয়। আমার বয়স যখন ৫ বছর, আমি তাকে মামা ডাকতাম। অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন কাওসার মামা। তার হাতের লেখাও ছিল দারুণ। খাতায় সুন্দর করে লিখতেন। সুন্দর ছবি আঁকতেন। কথা বলতেন গুছিয়ে। যাই হোক, একটা সময় তিনি আমাদের বাসায় নিয়মিত আসতেন।

এক সময় জানতে পারলাম, তিনি আমার খালাকে পছন্দ করতেন। এরপর বাবা আর মায়ের সঙ্গে কথা বলে খালাকে বিয়ে করলেন। সেই থেকে কাওসার মামা হয়ে গেলেন আমাদের খালু। যদিও আমি সবসময় তাকে মামা বলেই ডেকেছি। তার কথায় আমার গাওয়া 'কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে/ রাতের নির্জনে' গানটি এখনও সমান জনপ্রিয়। তিনি ছিলেন আমাদের বাংলা গানের রত্ন। গানের ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। তার কাছে আমি ঋণী।

কাওসার আহমেদ চৌধুরীর জনপ্রিয় কিছু গান:

* আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবেনা
*আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে
*যেখানে সীমান্ত তোমার
*কবিতা পড়ার প্রহর
*এই রুপালি গিটার ফেলে
*মৌসুমী, কারে ভালোবাসো তুমি
*ভালোবাসা ভাঙা বাসা
*এক ঝাঁক প্রজাপতি ছিলাম আমরা
*কেন খুলেছ তোমার ও জানালা
*জলসাঘরে এবার যাই
*স্বাধীনতা, তোমাকে নিয়ে

বিষয় : সফল গীতিকার

মন্তব্য করুন