ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী। বলিউডসহ দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির সিনেমায় সব সময়ই নায়ককেন্দ্রিক ছবির আধিপত্য থাকে। যদিওবা দু-চারটি ছবি নায়িকাকেন্দ্রিক থাকে, তবে সেগুলোর পুরুষ চরিত্রে মেগা তারকার দেখা মেলা ভার। নায়ককেন্দ্রিক সিনেমায় অবলীলায় নারী তারকারা অভিনয় করে থাকেন। হোক না সেই চরিত্র গুরুত্বহীন, তবুও তারা থাকেন। মাঝেমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সমালোচকরা সোচ্চার হন। তবে পুরুষকেন্দ্রিক এই রাজত্বে ব্যতিক্রম অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সব শ্রেণির দর্শকের কাছে এখন অত্যন্ত প্রিয়মুখ তিনি।

এ মুহূর্তে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী বরাবরই ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমনে আসন করে নিয়েছেন। বর্তমানে বলিউডের ব্যস্ততম অভিনেত্রীদের একজন মহেশ ভাট-তনয়া আলিয়া ভাট। শুধু তাই নয়, বলিউডে যে ক'জন অভিনেত্রী একটু ভিন্ন ধারার সিনেমায় অভিনয় করেন, আলিয়া তাদের অন্যতম। আরেকটি ব্যতিক্রমধর্মী নারীপ্রধান চরিত্র নিয়ে পর্দায় হাজির হচ্ছেন আলিয়া ভাট। সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালনায় 'গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়ারি' আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটিতে আলিয়া গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়ারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

এই প্রথম একজন 'মাফিয়া কুইন' এবং 'লেডি ডন'-এর মতো চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের কামাথিপুরায় একটি পতিতালয়ের সর্দার গাঙ্গুবাইকে ঘিরেই আবর্তিত 'গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়ারি'। প্রথিতযশা লেখক হুসেন জাইদির বই 'মাফিয়া কুইন্স অব মুম্বাই'-এর একটি অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এ চলচ্চিত্রকে জীবনীভিত্তিক সিনেমাই বলা যায়। সিনেমায় গাঙ্গুবাইয়ের বাস্তব জীবনের গল্প আবর্তিত হয়েছে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, উত্তরাধিকার ও পতিতালয়ের কুটিল রাজনীতি ঘিরে। একজন যৌনকর্মী হয়েও কীভাবে সমাজকর্মী হয়ে ওঠেন গাঙ্গুবাই, তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এ সিনেমায়। ছবির গল্পে দেখা যায়, গাঙ্গুবাই [আলিয়া] তার বাবার হিসাবরক্ষক রমনিকের [শান্তনু মাহেশ্বরী] প্রেমে পড়েছিলেন। বিয়ের আগে থেকেই বলিউডে কাজের ইচ্ছা ছিল তার।

প্রেমিকের কাছে তা প্রকাশও করেন। অবশেষে রমনিককে বিয়ে করে মুম্বাই চলে আসেন গাঙ্গুবাই। কিন্তু প্রেমিক-স্বামী গাঙ্গুবাইকে কামাথিপুরা যৌনপল্লিতে মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি করে পালিয়ে যায়। তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সেখানে করিম লালার [অজয় দেবগন] গ্যাংয়ের এক সদস্য গাঙ্গুবাইকে ধর্ষণ করে। গাঙ্গুবাই করিমের কাছে বিচারের দাবি জানায়। ঘটনাক্রমে করিম লালাকে রাখি পরিয়ে ভাই বানায় সে। প্রভাবশালী করিম লালা পাতানো বোন গাঙ্গুবাইকে কামাথিপুরার দায়িত্ব দেয়। এরপর ধীরে ধীরে মাফিয়া কুইন হয়ে ওঠে গাঙ্গুবাই। তিনি বিভিন্ন কুৎসিত অপরাজনীতির খেলায় নিজেকে সামলে নেন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে।