শেষবারের মতো এফডিসিতে এলেন বহুল আলোচিত ‘ছুটির ঘণ্টা’র চলচ্চিত্রের নির্মাতা আজিজুর রহমান। তবে এলেন কফিনবন্দি হয়ে। এসে আবার চলেও গেলেন। সেই যাওয়াটা হলো চিরতরে। তার আগে ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গুণী এই নির্মাতাকে বিদায় জানান প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পীসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের নানা পেশার মানুষ।

রোববার রাত ৮টার দিকে আজিজুর রহমানের মরদেহ এফডিসি প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। এশার নামাজের পর এফডিসিতে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এফডিসিতে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজা শেষে আজিজুর রহমানের মরদেহ নেওয়া হয়েছে গ্রীন রোডের সেন্ট্রাল রোডে তার বাসভবনে।ধানমন্ডির বায়তুল আমান জামে মসজিদে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে আজিজুর রহমানের মরদেহ নেওয়া হবে জন্মস্থান বগুড়ার সান্তাহারে। সেখানে বাদ যোহর চতুর্থ ও শেষ জানাজা শেষে ‘ছুটির ঘণ্টা’ খ্যাত এই চলচ্চিত্র নির্মাতাকে সান্তাহারের কলসা গ্রামে মা আবেজান বেগমের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

এর আগে গত ১৪ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে কানাডার টরেন্টোতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আজিজুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের সমস্যা ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে পানি চলে আসায় গুণী এই চলচ্চিত্র নির্মাতাকে কানাডার টরেন্টোর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

মারা যাওয়ার পর টরন্টোর স্কারবোরোতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আজিজুর রহমানের প্রথম জানাজা হয়। ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কার্গো বিমানযোগে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর বগুড়া জেলার সান্তাহারে কলসা সাঁতাহার মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন আজিজুর রহমান। তার পিতার নাম রূপচান প্রামাণিক এবং মায়ের নাম আবেজান বেগম।

প্রখ্যাত পরিচালক এহতেশামের সহকারী হিসেবে ১৯৫৮ সালে চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেন আজিজুর রহমান। ১৯৬৭ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র লোককাহিনী নির্ভর ‘সাইফুল মুল্ক্ বদিউজ্জামাল’ মুক্তি পায়।

এরপর তিনি উপহার দিয়েছেন অশিক্ষিত (১৯৭৮), মাটির ঘর (১৯৭৯), ছুটির ঘণ্টা’র (১৯৮০) মতো কালজয়ী সিনেমা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ৫৪টি চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জনতা এক্সপ্রেস, সাম্পানওয়ালা, ডাক্তার বাড়ি, গরমিল ও সমাধান ইত্যাদি।