বিশ্রাম বিহীনভাবে একই ছন্দে অবিরাম চলছে সেলাই মেশিন। চলছে চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের সেলাইয়ের কাজ। রমজান মাস শুরু, ঈদের আর বেশিদিন বাকি নেই। তাই তো রাজধানীর দর্জির দোকানের কারিগররা ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতাদের পছন্দমতো পোশাক হাতে তুলে দিতেই হবে ঈদের আগে। মাপ নেওয়া, কাপড় কাটা সব করতে হবে খুব যত্ন সহকারে।

ইস্টার্ন মল্লিকার একটি দোকানের একজন দর্জি জানান, রোজার শুরু থেকেই তারা রাত জেগে কাজ শুরু করেন। এভাবে কাজ চলবে একদম চাঁদ রাত পর্যন্ত। তবে শবেবরাতের পর থেকেই ক্রেতাদের শুরু ঈদ উপলক্ষে পোশাক বানানো। ১৫ রোজার পর থেকে কোনো দোকানেই নতুন অর্ডার নেওয়া হবে না বলে জানালেন তিনি। এত বড় উৎসবে যেন সবার পোশাক সুন্দর হয় এ জন্যই এ ব্যবস্থা।

দর্জিদের বহু বছর আগে কোনো সেলাই মেশিন ছিল না। কাঁচি, সুই-সুতা নিয়ে তারা হাতে কাজ করতেন। তখন এত বেশি দর্জির দোকানও ছিল না। সবাই চাইতেন নিজের কাপড় নিজে ঘরেই তৈরি করতে। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে এখন দর্জিবাড়িতেই জায়গা করে নিয়েছে যান্ত্রিক সেলাই মেশিন। শুধু কি তাই, নানা ধরনের এমব্রয়ডারি মেশিনসহ ওভার লুক, কাটওয়ার্কের কাজ করার জন্য থাকে নানা মেশিন। সঙ্গে সঙ্গে বডি মেজারমেন্ট, কাটিংয়ের মেশিনও চলে এসেছে আমাদের দেশে। ব্র্যান্ডের টেইলারিং শপে হাল ফ্যাশনের অনেক অনুষঙ্গ দর্জিবাড়িকে করেছে আরও বেশি উন্নত।

পছন্দমতো পোশাক তৈরি করতে প্রায় প্রতিদিনই ক্রেতারা ছুটছেন দর্জির দোকানে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে পোশাকের মজুরি রাখা হচ্ছে। আর সুতি, লিলেন, জর্জেট, কাতানসহ বিভিন্ন কাপড়ের ভিন্নতা সঙ্গে সিঙ্গেল এবং আস্তর দেওয়া পোশাকের ওপর ভিত্তি করেও নির্ণয় করা হচ্ছে মজুরি। তবে কারও কারও অভিযোগ সুযোগ পেয়ে এবং নির্ভরতার জায়গা বলে অনেকে ইচ্ছা করে দাম বেশি নিচ্ছে।

রাজধানীর গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, গাউসুল আজম, প্রিয়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মার্কেটে প্রচুর টেইলার্স আছে। এখানে পাবেন সব ডিজাইনের ক্যাটালগ; সেখান থেকে নারী ক্রেতারা বেছে নিতে পারেন আবার নিজের কোনো চয়েজ থাকলে তাদের দেখালে করে দেবে ঠিক সেই রকমই।

* হাল ফ্যাশনের ডিজাইন
বেশ কয়েকজন দর্জির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখন পাকিস্তানি কুর্তি স্টাইলের কামিজগুলো বেশ চলছে। একদম ফিগার টাইট না হয়ে এগুলো একটু লুজ এবং সোজা কাটিংয়ের হয়। আর লংও চলছে হাঁটু থেকে একটু নিচে। এখন না শর্ট না একদম লং- চলছে মাঝারি গড়নের জামা। সঙ্গে প্যান্ট কাটিং সালোয়ার। আবার কেউ সিগারেট প্যান্ট, পালাজ্জোও বানাচ্ছেন এ গরমে আরাম পেতে। হাতা তো অবশ্যই থ্রি কোয়ার্টারই প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রেতারা। কারণ অনেকে ছোট হাতা পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না আর এই গরমে ফুলহাতা অনেকেই এড়িয়ে চলছেন। হাতা গলায় চলছে এক্সট্রা কাপড় দিয়ে ক্রস, কুচি ডিজাইন। আবার শাটিন ও কুচি লেইছও হাতের কাছেই পাবেন। সালোয়ারের পাশে ও নিচে পুঁথি, লেইস, বোতামও অনেক চলছে। আর ছেলেদের কাপড় তৈরি করতে এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, গুলশান, লালমাটিয়া, উত্তরায় রয়েছে বেশ ভালো মানের দর্জির দোকান। আবার একটু অভিজাত ধরনের চাইলে চলে যেতে পারেন ব্র্যান্ডের দোকানে। রেমন্ড, টপটেন, সানরাইজ, সানমুন ও আইকনে। এখান থেকে কিনে এখানেই বানাতে দিতে পারবেন।

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেল, এবার থ্রিপিস তৈরির সর্বনিম্ন মজুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। লং ফ্রক তৈরির খরচ পড়বে ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া সিঙ্গেল কুর্তি বানাতে খরচ পড়বে ৩৫০ টাকা এবং ডিজাইনের ওপর এটা বাড়বে। আবার সিল্ক্ক, জর্জেট, কাতান, লিলেনে গুনতে হবে একটু বেশি মজুরি।