প্রায় দুই বছর হয় মারা গেছেন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। তার মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এখনও ধোয়াশা কাটেনি। ২০২০ সালের অগস্ট মাসে সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু মামলার দায়ভার নিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর মুম্বাইতে টানা এক সপ্তাহ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদও চালায় সিবিআইয়ের বিশেষ দল। 

কিন্তু তদন্তের দুই বছর  হলেও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। তবে সেই নিয়ে কোনওরকম তথ্য দিতে না-রাজ সিবিআই। সুশান্ত সিং রাজপুত মামলা নিয়ে দায়ের আরটিআই আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, ২০২০ সালের ১৪ই জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রার কার্টার রোডের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ। ৩৪ বছর বয়সী অভিনেতার রহস্যমৃত্যুকে শুরুতেই ‘আত্মহত্যা’ বলে ঘোষণা করে মুম্বই পুলিশ। সেই নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মামলা যায় সিবিআইয়ের অধীনে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যায়, তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় সুশান্তের মৃত্যু মামলা নিয়ে একটি আবেদন জমা পড়েছিল সিবিআইয়ের কাছে। তবে এই কেস সম্পর্কিত  তথ্য দিতে অস্বীকার করেছে সিবিআই। লিখিত জবাবে সংস্থা জানায়, ‘সুশান্ত সিং রাজপুতের মামলার তদন্ত আপতত জারি রয়েছে। এই মামলা সম্পর্কিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনলে সেটা তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তাই যে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তা দেওয়া যাবে না’। 

এত মাস পরেও সিবিআই স্পষ্ট করেনি সুশান্ত আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি এই মৃত্যুর সঙ্গে কোনও ফাউল প্লে জড়িয়ে আছে। অভিনেতাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর প্রেমিক রিয়া চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। সুশান্তের মৃত্যুর পর তীব্র কটাক্ষের সম্মুখীন হয়েছিলেন রিয়া। সুশান্তের মৃত্যু সম্পর্কিত মাদক মামলায় জেলেও থাকতে হয়েছে রিয়াকে। তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছেন রিয়া। 

প্রয়াত অভিনেতার পরিবারে রয়েছেন চার বোন (রানি সিং, মীতু সিং, প্রিয়াঙ্কা সিং এবং শ্বেতা সিং কীর্তি) এবং বাবা কেকে সিং। সুশান্তের পরিবার এখনও বাড়ির ছোট ছেলের অকাল ও রহস্যমৃত্যুর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।