নাটোর সদর হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার (৪৫), তার বাবা সুনিতী রঞ্জন সরকার (৬১) ও মা করুনা রানী সরকারকে (৫৬) আদালতের আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের তিনজনকেই অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ জানান, বুধবার দুপুরে ওই আসামিসহ মামলার মোট ৫ আসামিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার আদেশ পান তিনি। এরপর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে হাজির করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কোর্ট পরিদর্শক নজমূল হক জানান, বিকেলে ওই আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন জানানো হয়। জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত তাদের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল বাড়ির সীমানা প্রাচীর দ্বন্দ্বে আইনজীবী অজিত কুমার বিশ্বাসের দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে বুধবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলজার রহমান ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ অক্টোবর আইনজীবী অজিত কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে সুমনা সরকার, তার বোন সাগরিকা সরকার, মা করুনা রানী সরকার (৫৬), বাবা সুনিতী রঞ্জন সরকার (৬১) ও তাদের সহযোগী মাসুমের (৫০) বিরুদ্ধে নাটোর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই সীমানাপ্রাচীর ভাঙতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রাচীরটি ভেঙ্গে ফেলেন আসামিরা।

এরপর ওই ঘটনায় বাদী নাটোর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।আদেশের কপি গত ২০ এপ্রিল নাটোর পুলিশকে পাঠানো হলে আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

নাটোর জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক শেখ জানান, বেশ কয়েকবার বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই সীমানা প্রাচীরটি বাদীর জায়গায় এবং বাদীর নিজ খরচে করা।

বাদীর নিযুক্ত আইনজীবী আলী আজগর জানান, আসামিরা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে বিলম্ব করেছে।