বলিউড গায়ক কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে কলকাতায় অনুষ্ঠানে গান করতে এসেছিলেন। সেই অনুষ্ঠান নিয়ে তরুণদের উচ্ছ্বাস ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিষয়টি ভালো লাগেনি কলকাতার গাযক  রুপঙ্কর বাগচীর। সমালোচনা করেন  কেকের। তিনি বলেন, আমরা তার চেয়ে ভালো গাই। 

এরপরই সমালোচনা শুরু হয় রুপঙ্করের মন্তব্য নিয়ে। এর মধ্যেই মৃত্যু হয় কেকের। পরে নেটিজনদের রোষানলের মুখে পড়তে হয় রুপঙ্করকে। এবার অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জির রোষানলে পড়লেন রুপঙ্কর।

রুপঙ্করকে উদ্দেশ্য করে স্বস্তিকা জানতে চান ‘আপনি তো খুব ভালো গান। ওটাই আপনার পেশা। তা হলে কেন অভিনয়ের খাতায় নাম লেখালেন?’ স্বস্তিকা মুখার্জির অভিযোগ, রূপঙ্কর না এলে কোনো ভালো অভিনেতা সুযোগ পেতেন।এবং নিজেকে প্রমাণ করতে পারতেন। রূপঙ্করও তো একাধিক পেশায় নাম লিখিয়ে অন্যের পেটে লাথি মারছেন!

কেকের জনপ্রিয়তা দেখে সেদিন কি নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এ শিল্পী।   বলিউড গায়কের লাইভ অনুষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাতারাতি রূপঙ্করও লাইভ! 

বাংলার গায়কদের কেকের থেকে উচ্চমানের বলে দাবি করে বলেছিলেন, ‘আমাদের নিয়েও একইভাবে মাতামাতি করুক বাংলা। ’ ভিন্ন ভাষার শিল্পীরা বাংলায় এসে যেন বাংলার শিল্পীদের অন্নে ভাগ বসাচ্ছেন, এমনই ভাবনা হয়তো কাজ করেছিল তাঁর মনে। সেই শুরু, এরপর সমালোচনার কবলে পড়েন। কেকের মৃত্যুতে যেন রূপঙ্করের ওপরে রাগটা বেড়েই গেল।

এর পরেই যুক্ত হলেন স্বস্তিকা। তার পাল্টা প্রশ্ন, অভিনেতারা মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকদের বিনোদনের চেষ্টা করলে দোষ! অন্য পেশার মানুষ পর্দায় মুখ দেখালে কোনো সমস্যা নেই? তিনি মেনে নিয়েছেন, সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই গাইতে বা নাচতে পারেন না। কিন্তু তাঁরা তো মঞ্চে ম্যাজিক দেখাতে পারেন না। তাই বিনোদন হিসেবে এগুলোই বেছে নেন। কিন্তু একজন চিকিৎসক, অধ্যাপক, চাকরিজীবী বা অন্য পেশার মানুষ নিজস্ব কাজ থাকা সত্ত্বেও কত সহজে অভিনয়ে আসেন। একজন অভিনেতা কিন্তু চাইলেও অভিনয়ের বাইরে আর কিছুই করতে পারেন না। বিষয়টি কেউ বিবেচনা করেন না।

এর পরেই তিনি আঙুল তোলেন রূপঙ্করের দিকে। তার বক্তব্য, যিনি গানে পারদর্শী কেন তিনি নিজের পেশাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন না! যুক্তিও দিয়েছেন, ‘রূপঙ্করের গান শোনার জন্য টিকিট বিক্রি হতে পারে। কিন্তু ওর অভিনয় দেখার জন্য কি কেউ চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবেন?’ 

পরিচালক, প্রযোজকদের দিকেও আঙুল তুলেছেন স্বস্তিকা। কেন তাঁরা অভিনেতাদের সুযোগ না দিয়ে একজন গায়ককে সুযোগ দিচ্ছেন? রূপঙ্করের গান শোনা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি, 'এই ঘটনার পর থেকে কী করব জানি না। আমাদের তো সবার স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি! দুই দিন চেঁচাই। তারপর সবাই সব ভুলে যাই। '