উত্তর কোরিয়া অজ্ঞাত এক সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার অন্ত্রের এই সংক্রামক রোগের কথা জানায় দেশটি। বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন এই দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বর্তমানে করোনাভাইরাস মহামারির নজিরবিহীন এক ঢেউ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে নতুন এই সংক্রামক রোগ দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্তি চাপ তৈরি করেছে। 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন বুধবার দেশের পশ্চিমের বন্দর শহর হাইজুতে ‘তীব্র অন্ত্রের মহামারিতে’ ভোগা রোগীদের অতিসত্তর সাহায্য করার জন ওষুধ পাঠিয়েছেন। খবর রয়টার্সের। 

কেসিএনএ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেনি, কিংবা কতজন আক্রান্ত হয়েছেন তাও জানায়নি। শুধু রোগের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বিস্তারের কথা জানিয়ে বলেছে, যতটা সম্ভব মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর বিধিনিষেধ এবং সন্দেহভাজন রোগীদের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখার ওপর কিম জোর দিয়েছেন। এ ছাড়া মহামারি সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। 

এই প্রাদুর্ভাব এমন সময় দেখা দিল যখন দেশটি কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। পর্যাপ্ত করোনা ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকার উদ্বেগেরে মধ্যেই গত মাসে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটি। 

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশের ২৬ হাজার ১০ জনের বেশি মানুষ জ্বরের উপসর্গে ভুগছেন। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এপ্রিলের শেষ থেকে জ্বরের রোগী প্রায় ৪ দশমিক ৫৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। 

দেশটি প্রতিদিন কোভিড নয়, জ্বরের রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করে। কারণ সেখানে করোনা টেস্টের কিটের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংক্রমণের এই সংখ্যা সঠিক নয়। 

এদিকে দেশটি বলেছে, করোনার চলতি ঢেউয়ের নিম্নমুখিতার লক্ষণ দেখা গেছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পিয়ংইয়ংয়ের এই দাবির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির ধারণা, পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে।