কারোনার কারণে ছবি মুক্তি অনেকটাই বন্ধ ছিলো ২০২০ সাল। তাই সে বছর  দুই ঈদে বড় বাজেটের কোনো সিনেমাই মুক্তি পায়নি। ফলে সিনেমার প্রযোজকদের মধ্যে হতাশা ভর করছিলো। অনেকটা পুরোনো ছবি দিয়েই সচল ছিলো সিনেমা হল। কিন্তু  এ বছরের শুরু থেকেই সিনেমা মুক্তির জট খুলতে থাকে। মুক্তি পেতে থাকে নতুন নতুন সিনেমা। গেলো ঈদুল ফিতরে তো তিনটি বড় বাজটের ছবি মুক্তি পেলে প্রাণের সঞ্চার হয় প্রযোজক ও হল মালিকদের মধ্যে। 

গেলো ঈদে মুক্তি পাওয়া তিনটি ছবি 'শান', 'গলুই' ও 'বিদ্রোহী' দর্শকদের মধ্যে আলোচনার তৈরি করে। রাজধানীতে শান দেখতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে হলে হলে। ঢাকার বাইরে গলুইও দেখেন দর্শক। 'বিদ্রোহী' ছবিটিও ছিলো আলোচনায়। 

সে সময় হল মালিকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর হলে দর্শক ফিরিয়েছে ঈদের ছবি। আর সিনেমা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাঙলা ছবির ঘুরে দাঁড়ানোর যাত্রা শুরু হয়েছে। 

ঈদে একাধিক ছবি মুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে ঈদের পরও। ঈদের পরের শুক্রবার ছবি মুক্তির বেলায় ফাঁকা যায়নি।  ঈদের পর থেকে ‘পাপ পুণ্য, ‘আগামীকাল',‘বিক্ষোভ’, 'তালাশ' ও 'অমানুষ' ছবি পাঁচটি মুক্তি পায়।  ঈদের পরের মুক্তি পাওয়া এই ছবিগুলো দর্শক হলে ফেরাক আর না ফেরাক বিষয়টি পজেটিভ ভাবিই দেখছেন মালিক ও প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন।  তিনি বলেন, 'ঈদের ছবিগুলো বেশ আলোচনায় ছিলো। ঈদের পর প্রতি সপ্তাহেই হলে হলে নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এটা অবশ্যই আমাদের সবার জন্য খুশির খবর। যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে সেগুলোও ভালো ভালো গল্পের ছবি। আমাদের বিশ্বাস এখন হলে দর্শক কম হলেও এই ছবিগুলোই একদিন দর্শক হলে ফেরাবে।'

প্রদর্শক সমিতির এই নেতা মনে করেন নতুন ছবি দিয়ে হল সচল রাখার পাশাপাশি ভারতীয় ছবি আমদানি করে  চালানার অনুমতি পেলে হলের সিনেমা ব্যবসাটাও চাঙা হওয়ার সুযোগ আছে। 

এদিকে গত শুক্রবার দেশের ৯৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবি দুটি। মুক্তির আগে ছবি দুটি নিয়ে ভালো প্রচারণা চালান শিল্পীরা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই প্রায় সারা দেশেই ঝরেছে মুষলধারে বৃষ্টি ও সিলেট বিভাগের বড় অংশ ডুবে গেছে বন্যার পানিতে। এর প্রভাব পড়েছে সিনেমা হলেও। ফলে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সিনেমা হলে দর্শক কিছুটা কমেছে। বন্যার কারণে দুই–একটি জায়গায় সিনেমা হলই খোলেনি। তাই সিনমা ব্যবসা কতটা করেছে তা ধুয়াশার মধ্যেই রয়েছে। তবে নতুন ছবি মুক্তির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ।

মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ

তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে এটা অব্যশই ভালো উদ্যোগ। তবে আমার মধুমিতা হলের দর্শকরা যেমন ছবি চায় তেমন ছবি পাচ্ছি না। এও সত্যি ঈদের মত তো সারা বছর বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পাবে না। তাই আমি চাই উৎসবের বাইরে ভারতীয় ছবিগুলোও চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক। তাতে হল সচল রাখার পাশাপাশি আমাদের ব্যবসাটাও হবে। 

এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান  বলেন, প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। গত শুক্রবারেও দেখলাম দুটি ছবি মুক্তি পেলো। এটা তো আমাদের ছবি শুভ ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন করোনার কারণে জট লেগেছিল ছবিগুলো। প্রযোজকরা লোকশানের মুখে পড়েছিলো এখন ছবিগুলো মুক্তি দিয়ে কিছুটা হলেও তো লোকসান থেকে বেঁচে যাচ্ছে। 

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান

পরিচালক সমিতির এই নেতা আরও বলেন, আমাদের হলের অবস্থা এখন ভালো না। দেশের একটা অংশেও চলছে বন্যা। এই পরিস্থিতিতে সিনেমা হলে নতুন ছবি মুক্তি দেওয়াটাও সাহসী উদ্যোগ। আশা করি এভাবে হল সচল থাকলে আগামীতে এই হল থেকেই ব্যবসা করে ফিরবে প্রযোজকরা। 

রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে নিয়মিত চলে হলিউডের ছবিগুলো। ঈদের পর প্রতি সপ্তাহেই  নতুন মুক্তি পাওয়া বাঙলা  ছবি প্রদর্শন করে আসছে সিনেপ্লেক্সের চার শাখাতেই। বিষয়টি নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ঈদের যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে তার সবগুলোই আমরা চালাচ্ছি। তবে ব্যবসা আশানুরুপ নয়। তবে এই ভেবে ভালো লাগছে যে হলিউডের ছবির পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন বাংলা ছবি চালাতে পারছি। আমরা সিনেপ্লেক্স শুরু থেকেই বাংলা ছবির পক্ষে আছি। আমরাও চাই নিয়মিত বাংলা ছবি মুক্তি পাক এবং ব্যবসা সফল হোক।