বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা তরুণ মজুমদারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। কলকাতায় সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসায় পাঁচজন চিকিৎসকের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আজ বুধবার তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার কথা। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গেছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের খবরে। 

৯২ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নির্মাতা দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত, হাই ডায়াবেটিসও রয়েছে। নতুন করে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এবং ফুসফুসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তরুণ মজুমদারের। 

পরিচালনায় তাঁর অভিষেক ‘যাত্রিক’-এর হাত ধরে ৷ ১৯৬৩ পর্যন্ত শচীন মুখোপাধ্যায়, দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘যাত্রিক’-এর মাধ্যমেই ছবি পরিচালনা করেন তরুণ মজুমদার। এরপর ১৯৬৩ সালে তিনি একক পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নায়ক করে ‘একটুকু বাসা’ এবং ‘আলোর পিপাসা’ পরিচালনা করেন বসন্ত চৌধুরীকে নায়কের ভূমিকায় রেখে। এরপর টালিগঞ্জে তার যাত্রা ক্রমশই মজবুত হয়ে ওঠে।  

তিনি একে একে ‘বালিকা বধূ’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘ঠগিনী’, ‘পলাতক’, ‘সংসার সীমান্তে’, ‘গণদেবতা’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’-সহ অজস্র মণিমুক্তোয় সাজিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রকে। 

তরুণ মজুমদারের পরিচালনাতেই বাংলা চলচ্চিত্র দুনিয়ায় পরিচিত হন তাপস পাল, দেবশ্রী রায়, মহুয়া রায়চৌধুরীর মতো শিল্পীরা। বাংলা সাহিত্যনির্ভর ছবিতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধুর্য ছিল তরুণ মজুমদারের ছবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘কাচের স্বর্গ’, ‘নিমন্ত্রণ’, ‘গণদেবতা’ এবং ‘অরণ্য আমার’ ছবিগুলো পায় ভারতের জাতীয় পুরস্কার।