ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় ভোরে এ হামলায় শহরটি কেঁপে ওঠে। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে এটিই কিয়েভে প্রথম রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল জার্মানিতে জড়ো হয়েছেন বিশ্বনেতারা। এর কিছুক্ষণ আগেই এ হামলা চালাল মস্কো।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেন, রুশরা আবারও কিয়েভে হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে ইউক্রেনের পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত পাঁচ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিস্ম্ফোরণের পর সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। শহরটির মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো টেলিগ্রাম অ্যাপে জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় ৯ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে কয়েকজন। সেখান থেকে সাত বছরের একটি মেয়ে শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এদিকে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর চেরকাসিতেও রোববার বিস্ম্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত এই শহরটি প্রায় সংঘাতমুক্ত ছিল।

বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেন ও পশ্চিমারা অভিযোগ করেছে, রুশ বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করছে, তারা হাজারো বেসামরিককে হত্যা করেছে। তাদের বেপরোয়া হামলায় ইউক্রেনীয় কয়েকটি শহর ধ্বংস হয়েছে এবং লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

পাঁচ মাসে গড়িয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত। এ সময় দেশটির একাধিক শহর দখল করেছে রুশ বাহিনী। সর্বশেষ পূর্বাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সেভেরোদোনেটস্ক শহরের পতন ঘটল। শহরের মেয়র আলেক্সান্ডার স্ট্রিউক বলেন, সেভেরোদোনেটস্ক শহরটি রুশ সেনারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তারা এখন সেখানে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। সেভেরোদোনেটস্কে কর্তৃপক্ষও নিয়োগ দিয়েছে মস্কো। শহরটিতে একসময় এক লাখের বেশি মানুষ বসবাস করতেন। সেটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত মাসে মারিউপোল বন্দর দখল করার পর থেকে এটি মস্কোর সবচেয়ে বড় বিজয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেলারুশকে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেবে রাশিয়া। শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন এ কথা বলেছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বেলারুশকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি। ইস্কান্দার-এম ব্যবস্থা থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ৫০০ কিলোমিটার (৩১০ মাইল) দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। এ ছাড়া ইস্কান্দার-এম পরমাণুবাহী ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

ইউক্রেনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনের উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলা শুধু আমাদের অবকাঠামোতে চালানো হয়েছে তা নয়, এগুলো আমাদের জনগণের ওপর এক ধরনের আতঙ্ক ও চাপ সৃষ্টি করছে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, আসন্ন সফরে উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। তাঁদের প্রতি সংলাপে বসার আহ্বান জানাবেন। বিশেষ করে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করবেন। জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা করার আগে উইদোদো বলেন, যুদ্ধ থামাতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহের চেইন ফের সক্রিয় করতে হবে।

গতকাল জার্মানিতে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর জোট জি৭-এর নেতারা। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, খাদ্য এবং জ্বালানি ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে জি৭ নেতারা পুতিনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইবেন। রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। ইইউর এক নেতা বলেছেন, জি৭-এর প্রধান বার্তা হবে ঐক্য এবং কর্মের সমন্বয়। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের।