নড়াইলের একটি কলেজের অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন— সদরের মির্জাপুর বাজারের মোবাইল মেকানিক শাওন খান (২৮), স্থানীয় নুরানি মাদরাসার শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (২৭) ও অটোরিকশা চালক রিমন আলী (২২)। 

অধ্যক্ষকে হেনস্তা, শিক্ষকদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সোমবার রাতে অজ্ঞাত দুইশ’ ব্যক্তিকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় ফেসবুকে হজরত মহানবীকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় ১৮ জুন কলেজে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। পরে অভিযুক্ত ছাত্র এবং কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা গলায় পরিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় তারা। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। 

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রকে ঘটনার দিন বিকেলে কলেজ চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

অধ্যক্ষের মেয়ে শ্যামা বিশ্বাস জানান, এ ঘটনার পর বাবা বাড়িতে অবস্থান করছেন না। এ ছাড়া ওনার ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, অধ্যক্ষের বাড়ি সদরের সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির বলেন, তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ছাড় পাবে না। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।