নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে এক গৃহবধূকে নির্যাতন এবং জরিমানার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরে ওই রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক, তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, উপজেলার হাতিয়াপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক গৃহবধূর অজান্তে মোবাইলে তার ছবি তুলে এডিট করে কয়েকজনকে দেখান। এর জের ধরে গত রোববার রাতে হাতিয়াপাড়া গ্রামে সালিশে বসেন স্থানীয় আব্দুস ছালামসহ মাতব্বররা। এসময় গৃহবধূর গোপন ছবি ধারণে মায়ের সহযোগিতা আছে এমন অভিযোগ তুলে ওই গৃহবধূকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন তারা।

জরিমানার টাকা দিতে না পারায় রাতেই বাড়ি থেকে ফ্রিজ টেনে বের করে নিয়ে যান মাতব্বররা। এছাড়া সালিশে গৃহবধূর স্বামীকে দিয়ে ১০টি বেত্রাঘাত এবং মোবাইলে ছবি ধারণ করা যুবক সাদ্দামকে দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং পাঁচটি বেত্রাঘাত করেন।

এ ঘটনায় গৃহবধূ স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের নামে মামলা করেন। মামলার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য মাগুড়াপাড়া গ্রামের মৃত আলিম উদ্দীনের ছেলে ইসমাইল হোসেন চেরু (৫০), হাতিয়াপাড়া গ্রামের বাবলু মোল্লার ছেলে রুহুল মোল্লা (২০) ও একই গ্রামের মানিক সরদারের ছেলে তোফাজ্জল সরদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারেকুর রহমান সরকার বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূ বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।